বিজ্ঞাপন

বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে ইউএনও’র গাড়ি ঘেরাও; বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

নওগাঁর আত্রাইয়ে ১২ বছরের এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে গিয়ে নজিরবিহীন বাধার মুখে পড়েছেন উপজেলা প্রশাসন। এসময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বরকে আটক করার পর ইউএনও’র গাড়ি আটকিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বরপক্ষের লোকজন। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিজ্ঞাপন

​শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার বিশা ইউনিয়নের সমাসপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

​স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সমাসপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আল-আমিন নামের এক যুবকের বিয়ের আয়োজন চলছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান চালিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন। তবে আসল নাটক শুরু হয় বরকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময়।

​প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বর আল-আমিনকে নিয়ে ইউএনও’র গাড়ি রওনা দিলে প্রায় ৩০ জন বরযাত্রী এক জোট হয়ে প্রশাসনের গাড়ির গতিরোধ করে। তারা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চড়াও হয় এবং আটক বরকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বরযাত্রীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে বর ও কনেসহ তিনজনকে আটক করা হয়।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, সমাসপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মুনিরুল জামান মুনিরসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি—মুনিরুল জামান মুনিরের ইন্ধনেই বরপক্ষ প্রশাসনের গাড়িতে হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার সাহস পায়।

​তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মুনিরুল জামান মুনির বলেন, ‘বিয়েটা দুই বছর আগেই হয়েছে, আজ শুধু আনুষ্ঠানিকতা ছিল। বরপক্ষের সঙ্গে আত্মীয়তা থাকায় সেখানে গিয়েছিলাম। কোনো হামলায় ইন্ধন দেওয়ার তথ্য সঠিক নয়, বরং আমি প্রশাসনকে সহায়তাই করেছি।”

আত্রাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাল্যবিয়ে বন্ধ করে বরকে আটক করা হলে বরপক্ষের লোকজন সরকারি কাজে বাধা দেয় এবং আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

​তিনি আরও জানান, বাল্যবিয়ে আয়োজন এবং প্রশাসনের ওপর হামলা ও বর ছিনতাই চেষ্টার অপরাধে মুন্নাফ, রাব্বী, ইউনূস, সজলসহ অন্তত ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং বাল্যবিয়ে রোধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পড়ুন:যানজটের শহরে স্বস্তির উদ্যোগ, হকারদের জন্য ইউএনও,র নির্ধারিত ৯৮ স্থান

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন