মাদারীপুরের ডাসার সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়ে একই সময়ে ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষক প্রশিক্ষণে থাকায় শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ের পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে এখন যুক্তিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মো. নুরুল আলমকে দিয়ে ইংরেজি ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এতে ইংরেজি বিষয়ের পাঠদান কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
কলেজ-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডাসার সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়ের উচ্চমাধ্যমিক শাখায় ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত বঙ্কিম সেন প্রায় দেড় মাস ধরে চার মাস মেয়াদি বিসিএস বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে রয়েছেন। একই সময়ে ডিগ্রি শাখার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক বিল্লাহ হোসেনও প্রায় ২৭ দিন ধরে প্রশিক্ষণে রয়েছেন।
ফলে একই সময়ে দুই শাখার দুই ইংরেজি শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় ইংরেজি বিষয়ের নিয়মিত পাঠদান নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক মো. নুরুল আলমকে দিয়ে ইংরেজি ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
কলেজ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চমাধ্যমিক শাখায় নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৯৩ জন। ডিগ্রি ও অনার্স মিলিয়ে আরও প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছেন। অর্থাৎ কয়েকশ শিক্ষার্থীর ইংরেজি শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দুই শিক্ষক একই সময়ে প্রশিক্ষণে থাকায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য, উচ্চশিক্ষা, চাকরির পরীক্ষা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ইংরেজি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকরা অনুপস্থিত থাকায় অন্য বিভাগের শিক্ষক দিয়ে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে পাঠ্যসূচি যথাসময়ে শেষ করা, বিষয়ভিত্তিক ব্যাখ্যা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে তাদের আশঙ্কা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, “আমাদের স্যার না থাকায় সেভাবে পড়ালেখা হচ্ছে না। প্রায় এক মাস ধরে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। এতে আমাদের পড়াশোনার অনেক ক্ষতি হচ্ছে।”
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “কলেজে সন্তানদের পাঠানো হয় ভালোভাবে পড়াশোনা শেখানোর জন্য। ইংরেজি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সেই বিষয়ের শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে ঠিকভাবে শিখবে? আগে কলেজের ফলাফল ও পাসের হার ভালো ছিল। এখন পড়াশোনার পরিবেশ আগের মতো নেই।”
একই সময়ে দুই শিক্ষক প্রশিক্ষণে কেন?
শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের প্রশ্ন, প্রশিক্ষণ যদি শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে থাকে, তাহলে একই বিভাগের দুই শিক্ষককে একই সময়ে প্রশিক্ষণে পাঠানোর আগে শিক্ষার্থীদের পাঠদান স্বাভাবিক রাখার জন্য বিকল্প শিক্ষক বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না।
এ বিষয়ে ডাসার সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকিয়া সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রশিক্ষণের কারণে ইংরেজি বিভাগের পাঠদানে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না এবং একই বিভাগের দুই শিক্ষককে একই সময়ে প্রশিক্ষণে পাঠানোর বিষয়ে কোনো নিয়ম রয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মাউশির সঙ্গে কথা বলেন। আমার সঙ্গে কথা না বলেই বিষয়টি হয়।”
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্যের বিষয়টি নিয়ে মাদারীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামাল হোসাইনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “একই বিভাগের দুই শিক্ষককে একই সময়ে প্রশিক্ষণে পাঠানোর বিষয়টি সাধারণভাবে পাঠদানে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। একই ডিপার্টমেন্টের দুইজন একসঙ্গে কোনো প্রশিক্ষণে যেতে পারেন না। এতে পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং প্রশিক্ষণের মতো প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমের সমন্বয় রাখার বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে সমাধান করে, সেটিই দেখার বিষয়।
পড়ুন : গণতন্ত্র রক্ষায় সহনশীলতার রাজনীতির দিকে দেশকে নিয়ে যেতে হবে: রাষ্ট্রপতি
সা/


