বিজ্ঞাপন

সোনারগাঁয়ে মরিয়মকে পিটিয়ে অজ্ঞাত ট্যাবলেট খাওয়ানোর অভিযোগ, হাসপাতালে মৃত্যু!

বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোসাঃ মরিয়ম (৩৫) নামে এক নারীকে নির্মমভাবে মারধর, পিস্তল দিয়ে আঘাত এবং জোর করে অজ্ঞাতনামা ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ইকবাল হোসেনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে মরিয়মের। ঘটনায় নিহতের ভাই মো. রাব্বি (২০) সোনারগাঁ থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।

এজাহারের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে মরিয়মের বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে মাদক সেবন করতেন ইকবাল ও তাঁর সহযোগীরা। এতে বাধা দেওয়ায় মরিয়মকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।

গত ৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে ইকবাল হোসেন, ইয়ামিন, আরমান, দিপু ও হিরন মরিয়মের ঘরে ঢুকে মাদক সেবন শুরু করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে প্রতিবাদ করায় আরমান, দিপু ও হিরন তাঁকে দুই হাত ধরে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ। এরপর ইয়ামিন কিল-ঘুষি ও তলপেটে লাথি মারেন বলে দাবি করা হয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, দিপু পিস্তল দিয়ে মরিয়মের ডান কব্জি ও পিঠে আঘাত করেন। হিরনও অপর একটি পিস্তল দিয়ে তাঁর পিঠে আঘাত করেন। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান মরিয়ম।

এরপর আরমানের দেওয়া অজ্ঞাতনামা একটি ট্যাবলেটকে ‘ব্যথার ওষুধ’ বলে মরিয়মের মুখে জোর করে ঢুকিয়ে দেন ইকবাল—এমন অভিযোগ রয়েছে এজাহারে। ট্যাবলেট খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অচেতন হয়ে পড়েন তিনি।

এজাহারে আরও দাবি করা হয়েছে, মরিয়মকে মৃত ভেবে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ছালেহা বেগম, শিউলী বেগম, লাইলি বেগম ও আনারকলি। স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।

পরে মুমূর্ষু অবস্থায় মরিয়মকে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মরিয়মকে মারধর, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, অজ্ঞাত পদার্থ প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ এবং লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগ এনে ইকবাল হোসেনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এজাহারে করা অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই নিশ্চিত হবে।

পড়ুন : ভুয়া র‌্যাব সেজে স্কুল ছাত্রী কে ধর্ষণ, প্রতারক গ্রেফতার

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন