রাজশাহীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক পর্যায় পৌঁছেছে। প্রতিনিয়ত রাজশাহী জেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও জেলাগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ক্রমাগত ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে।
ডেঙ্গুর মারাত্মক আক্রমন মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই, তরুণ থেকে বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষই আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে মৃত্যুর হার কম হলেও বিপুল সংখ্যক রোগী ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
রামেক সূত্রে জানা গেছে, ৯ সেপ্টেম্বর মোট ৬৯ জন রোগী ভর্তি হন। তবে ১৮ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন, ২০ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং ১ জন মারা গেছেন। মৃত ব্যাক্তি ইমরুল কায়েস হৃদয় তিনি নাটোর জেলার বাসিন্দা ছিলেন। একইভাবে নতুন গদ ১০ সেপ্টেম্বর ২০ জন রোগী রামেকে ভর্তি হয়েছে, ২৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ১ জন মারা গেছেন। তিনি পাবনার জিতু সরকার। ১১ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুর আক্রান্ত রোগীদের কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। রামেক হাসপাতালে মোট ৬৪ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে ৬৪ জনের মধ্যে ২০ জন নতুন রোগী এবং ২৪ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হওয়া রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, রামেক চিকিৎসা সেবা খুবই ভালো। রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য হাসপাতালের চেয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেকহ) তুলনামূলক ভালো। তাই অনেক রোগী রামেক হাসপাতালে আসছেন। এখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগী বাড়ি ফিরেছেন তবে যারা ডেঙ্গুতে বেশি আক্রান্ত তারা মারা গেছেন। তবে মৃত্যুর হার অনেক কম।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র চিকিৎসক শেখ শামীম আহমেদ বলেন, কেবল সরকারি বিভাগের পক্ষে ডেঙ্গু প্রতিরোধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। আমাদের যৌথভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা উচিত। জেলার অন্যান্য জায়গার তুলনায় রাজশাহী শহর অনেক ভালো। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ পাশর্^ার্তী জেলার ও উপজেলার বাসিন্দা।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন জানান, শহরের ড্রেন ও স্থানীয় এলাকা ক্রমাগত পরিষ্কার করা হচ্ছে। রাসিকের পুরো টিম ২৪ ঘণ্টা দায়িত্বে রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ফগার মেশিনের মাধ্যমে স্প্রেও করছে রাসিক। নগরবাসীকে সচেতন করতে রাসিকের পক্ষ থেকে প্রচারণামূলক ঘোষণাও দেওয়া হচ্ছে।
পড়ুন : এক বছরে রিজার্ভ বেড়ে ৭.৬১ বিলিয়ন ডলারে
সা/


