বিজ্ঞাপন

পদ্মার ধ্বংসলীলা: বিপন্ন জনপদ চরাঞ্চলের মানুষ

বিজ্ঞাপন

গত কয়েকদিনে উজান থেকে বয়ে আসা বন্যার পানি আর তীব্র স্রোতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে পদ্মা নদী ভাঙন।
গত দুই সপ্তাহের ভাঙ্গনে উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের জয়পুর, কবিরপুর, বিশরশি এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার ফসলী জমিসহ বসতভিটা হারিয়ে ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তীব্র স্রোতে ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন আরও কয়েকশ’ পরিবার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অব্যাহত ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো অসহায় মানুষের খোঁজ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বা জনপ্রতিনিধি। আর জরুরি ভাঙন ঠেকাতে নেওয়া হয়নি আপদকালীন জরুরী ব্যবস্থাও। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই মাস পূর্বে পদ্মা যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে তীব্র স্রোত আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঢেউয়ের কারণে ভাঙন শুরু হয়। তবে, ভাঙনের পরিমাণ ধীর গতি হওয়ায় কেউ এর ভয়াবহতা টের না পেলেও বর্তমান সময়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে এরই মধ্যে জয়পুর, কবিরপুর, বিশরশি এলাকার প্রায় ৩০০ পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

কবিরপুর এলাকার সইজুদ্দিন মন্ডল বলেন, গত কয়েকদিনে এই এলাকার অন্তত ২৫০-৩০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছেন। ভাঙনে শুধু শফি মেম্বারের কলোনীতেই ৮০ পরিবার তাদের বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছেন। নদীর পাড়ে প্রচন্ড স্রোতের কারণে ভাঙন বেড়েছে।

পেশায় মোটরসাইকেলচালক জিন্নাহ বলেন, ভাঙনের কথা বলতে গেলে বুকটা ফেটে আসে। একে একে পাঁচবার ভাঙনের শিকার হয়েছি। ভাঙতে ভাঙতে আর কিছু নাই। বুকটা ফেটে আসে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, চরাঞ্চলের এই এলাকার নদীভাঙন রোধে দ্রুত একটা ব্যবস্থা নেয়।

জয়পুর এলাকার কুলছুম বেগম বলেন, প্রতিবছরই এই এলাকা নদীভাঙনের শিকার হয়। এর আগে কিছু বালুর বস্তা ফেললেও তাতে কোনো কাজেই আসেনি। সরকারের কাছে দাবি জরুরি ভিত্তিতে এই এলাকায় স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা করা হোক।

লেছড়াগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গতবছর আমার ইউনিয়নের প্রায় ১২০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এবছরেও গত কয়েকদিনে প্রায় ৩০০ পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি, তারা বলেছে যে আমরা দেখছি কি করা যায়।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে সরজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আমরা সবসময় আছি। আমাদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের যতটুকু সহযোগিতা করা যায়, আমরা করবো।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, চরাঞ্চলের এলাকার জন্য স্থায়ীভাবে কোনো কিছু করা যায় কিনা সেটা যাচাই করতে ফিজিবিলিটি স্টাডির অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এটাতে যে রিপোর্ট আসবে তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পড়ুন : সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন