বিজ্ঞাপন

কানাডীয় পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কার্যকর

বিজ্ঞাপন

কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক এবং শুল্ক অব্যাহতির গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে। সংশোধিত তালিকায় নতুন করে বিভিন্ন ধরনের পনির, মোটরবোট, কাগজ, অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতজাত পণ্য যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি গদি ও নির্দিষ্ট কিছু আসবাবপত্রও ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের আওতায় এসেছে।

তবে একই সময়ে টয়লেট পেপার, ফেসিয়াল টিস্যু, মাছ ধরার সরঞ্জামের কিছু অংশ, সিমেন্ট এবং রাস্তার বরফ গলাতে ব্যবহৃত লবণসহ বেশ কিছু পণ্যকে এই উচ্চ শুল্কের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। চার লিটারের বেশি ধারণক্ষমতার পাত্রে থাকা হুইস্কিও ৫০ শতাংশ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পেয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সংশোধিত শুল্ক তালিকায় কানাডা থেকে আমদানি করা বেশ কিছু পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পনির, মোটরবোট, কাগজ, অ্যালুমিনিয়াম ও ইস্পাতজাত পণ্য। পাশাপাশি গদি এবং নির্দিষ্ট কিছু আসবাবপত্রও নতুন করে শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে।

এসব পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে কানাডা থেকে এসব পণ্য আমদানির খরচ বাড়তে পারে। আমদানিকারকদের বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের দামেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, দুই দেশের মোট বাণিজ্যের তুলনায় নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্কের আওতায় পড়া পণ্যের পরিমাণ খুব বেশি নয়। অর্থাৎ সামগ্রিক মার্কিন-কানাডা বাণিজ্যের তুলনায় এর প্রভাব সীমিত থাকবে বলে দাবি তাদের।

নতুন তালিকার পাশাপাশি বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পণ্যকে উচ্চ শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে টয়লেট পেপার, ফেসিয়াল টিস্যু এবং মাছ ধরার সরঞ্জামের কিছু অংশ।

এ ছাড়া নির্মাণ খাতের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ সিমেন্ট এবং শীতপ্রধান এলাকায় রাস্তার বরফ গলাতে ব্যবহৃত রোড সল্ট বা লবণকেও ৫০ শতাংশ শুল্কের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

চার লিটারের বেশি ধারণক্ষমতার পাত্রে থাকা হুইস্কিও নতুন তালিকা অনুযায়ী উচ্চ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পেয়েছে। এসব পণ্যকে শুল্কের বাইরে রাখার সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যবসা ও ভোক্তা পর্যায়ে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষ করে সিমেন্ট ও রোড সল্টের ওপর উচ্চ শুল্ক কার্যকর হলে স্থানীয় পর্যায়ে নির্মাণ ব্যয় এবং শীতকালে সড়ক ব্যবস্থাপনার খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

মেইন অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স জানিয়েছেন, রাস্তার লবণ ও সিমেন্টের ওপর শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি তিনি নিজেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তুলে ধরেছিলেন।

তার বক্তব্যের পর এসব পণ্যকে উচ্চ শুল্কের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে কলিন্সের পুনর্নির্বাচন রিপাবলিকানদের সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এ কারণে নির্বাচন সামনে রেখে শুল্কনীতির পরিবর্তন রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখেই নতুন শুল্ক ও অব্যাহতির এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে দেশটির পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমদানি করা পণ্যের ওপর নতুন করে উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হলে কিছু পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশের আশঙ্কা, আমদানির ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের ফলে আমদানিকারকদের ব্যয় বাড়বে। সেই বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, এসব শুল্কের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও ব্যবসাকে সুরক্ষা দেওয়া এবং বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে আরও অনুকূল বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য উত্তেজনা নতুন নয়। বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর গত আগস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন।

এর পাল্টা জবাব হিসেবে কানাডাও প্রায় একই মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। এতে উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়ে যায়।

এরপর গত সপ্তাহে কানাডার পাল্টা পদক্ষেপের জবাবে হোয়াইট হাউস আরও কঠোর অবস্থান নেয়। কানাডা থেকে আমদানি করা কিছু অ্যালকোহলজাত পানীয় ও দুগ্ধজাত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

একই সময়ে কানাডীয় পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্ক তালিকাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সর্বশেষ শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১৯৩০ সালের ট্যারিফ আইনের ৩৩৮ ধারা ব্যবহার করেছেন। তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত এই আইনি বিধানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন শুল্ক এমন কিছু পণ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত। পাশাপাশি এসব পণ্যের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আগে থেকে আরোপ করা বিভিন্ন খাতভিত্তিক শুল্কও বহাল থাকবে।

ফলে একই পণ্যের ওপর একাধিক ধরনের শুল্ক কার্যকর থাকার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের আমদানি ব্যয় ও বাণিজ্য পরিকল্পনায় বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাণিজ্য উত্তেজনা নতুন শুল্ক তালিকায় থেমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং ভবিষ্যতে গাড়ি বাণিজ্য নিয়েও পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, কানাডা থেকে আমদানি করা গাড়ির ওপর বর্তমানে কার্যকর ২৫ শতাংশ শুল্ক আগামী জানুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে হুমকি দিয়েছেন, তা এখনো বহাল রয়েছে।

গাড়ি শিল্প দুই দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে এই খাতে শুল্ক বাড়ানো হলে তা শুধু আমদানিকারক বা নির্মাতাদের ওপর নয়, দুই দেশের সরবরাহব্যবস্থা ও ভোক্তা পর্যায়েও প্রভাব ফেলতে পারে।

সব মিলিয়ে কানাডীয় পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক ও পাল্টা শুল্কের পাশাপাশি গাড়ি বাণিজ্য নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্কের উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্কনীতি কতটা কার্যকর হয় এবং এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভোক্তা ও ব্যবসার ওপর কতটা পড়ে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

পড়ুন:আজ আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন