বিজ্ঞাপন

একাদশে ভর্তির প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ আজ, দেখবেন যেভাবে

বিজ্ঞাপন

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রথম পর্যায়ের ফল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় একযোগে প্রকাশ করা হবে। এবার সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে পছন্দ দেওয়ার সুযোগ পেয়ে এবার মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর অনলাইনে একাদশ শ্রেণির ভর্তি আবেদন শুরু হয়। আবেদন গ্রহণ শেষ হয় ১৩ সেপ্টেম্বর (রোববার) রাত ৮টায়। ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দ দিতে পেরেছেন।

এবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী।

বোর্ড জানায়, আজ প্রথম পর্যায়ের ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চয়ন করতে হবে। এ জন্য আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চয়ন না করলে শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড এ ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করে। তাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভর্তি আবেদন ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে এ সময় বাড়ানো হয়। ফলে আবেদন না করতে পারা শিক্ষার্থীরা খাতা চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে ফল পরিবর্তিত হওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আবেদন করতে পারেন।

ভর্তির জন্য কোনো বাছাই বা ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে না। কেবল শিক্ষার্থীর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আসনের ৭ শতাংশ কোটায় রাখা হয়েছে। কলেজগুলোর মোট আসনের বাকি ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশের পর ভর্তি নিশ্চায়নের জন্য ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন না করলে নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হবে। ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় পছন্দক্রম অনুযায়ী মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সব শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর কথা রয়েছে ২৩ সেপ্টেম্বর।

যেভাবে ফল দেখা যাবে
একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল অনলাইনে দেখতে শিক্ষার্থীদের প্রথমে একাদশ শ্রেণির ভর্তির ওয়েবসাইটে https://xiclassadmission.gov.bd/ প্রবেশ করতে হবে। এরপর হোমপেজে থাকা ‘ভিউ রেজাল্ট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।

পরে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, শিক্ষা বোর্ডের নাম, পাসের সাল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। এরপর স্ক্রিনে প্রদর্শিত ক্যাপচা কোড পূরণ করে ‘সাবমিট’ করলে ফল দেখা যাবে। সেখানে শিক্ষার্থী কোন কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, তা জানা যাবে।

প্রথম ধাপে নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন ও ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কলেজে চূড়ান্ত ভর্তি শেষ করার কথা রয়েছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সারা দেশে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।

এবার একাদশে ভর্তির মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এসব আসনে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আসন মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা হবে।

একাদশে ভর্তির আবেদনই করেনি দেড় লাখ শিক্ষার্থী

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করা প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদনই করেনি। ফলে রাজধানী ও বড় শহরের নামি কলেজগুলোতে পছন্দের আসন নিয়ে প্রতিযোগিতা হলেও দেশের বহু মফস্বল ও গ্রামের কলেজকে এবার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তীব্র শিক্ষার্থী সংকটের।

বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৬২ জন শিক্ষার্থী। এর বিপরীতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা— এই তিন বিভাগ মিলিয়ে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ জন। অর্থাৎ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়েও ১ লাখ ৪৮ হাজার ২৩২ জন শিক্ষার্থী এখনো উচ্চমাধ্যমিকে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় নাম লেখায়নি। পাস করেও তারা কেন একাদশে ভর্তির আবেদন করেনি, তাদের কতজন অন্য কোনো শিক্ষাব্যবস্থায় যাচ্ছে কিংবা কতজন পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়ছে, এ বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

আবার আসন ও শিক্ষার্থীর সংখ্যার হিসাব পাশাপাশি রাখলে পরিস্থিতির বিপরীত চিত্রও উঠে আসে। সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আসন রয়েছে ২৫ লাখের বেশি। বিপরীতে ভর্তির যোগ্য শিক্ষার্থী ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৬২ জন। অর্থাৎ সব উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তি হলেও বিপুলসংখ্যক আসন খালি পড়ে থাকবে। এর বাইরে পাস করেও যারা এখনো ভর্তির আবেদন করেনি, তাদের বাদ দিলে বাস্তবে কলেজে যাওয়ার পথে থাকা শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও কমে যায়।

পড়ুন : ২০৩০ সালের মধ্যে ৬৮৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ পিডিবির

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন