বিজ্ঞাপন

বিশ্ববাজারে আরও কমল জ্বালানি তেলের দাম

বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও কমেছে। এশিয়ার ক্রেতাদের কাছে ওমান হয়ে বাড়তি তেল সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব।

ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ২৪ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১ দশমিক ১৪ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগের দিন বুধবারও দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার করে কমেছিল।

সৌদি আরামকো ওমানের সোহর বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে এশিয়ার ক্রেতাদের অতিরিক্ত সরবরাহ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে আরব লাইট, আরব মিডিয়াম ও আরব হেভি গ্রেডের তেল রয়েছে।

সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল বোঝাই ব্যাহত হওয়ায় চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেলের দাম চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।

হামলায় পাইপলাইনের দুটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো পুরোপুরি মেরামত করতে কত সময় লাগবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুতের তথ্যও বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি করেছে। দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত মাত্র ৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল কমেছে। অথচ রয়টার্সের এক জরিপে মজুত ১৬ লাখ ব্যারেল কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। সৌদি আরবের ইয়েমেনে হামলা এবং এর জবাবে হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে তেল সরবরাহব্যবস্থা এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

মৈত্রী পাইপলাইনে ভারত থেকে এলো ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন বা ৪৭ লাখ লিটার ডিজেল বাংলাদেশে এসেছে। এসব জ্বালানি দিনাজপুরের পার্বতীপুর রিসিভিং টার্মিনাল ডিপোতে পৌঁছেছে। এটি পাইপলাইনের ৭২তম চালান।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় এই চালানের সরবরাহ শুরু হয়। ১৫ সেপ্টেম্বর তা শেষ হয়। পার্বতীপুর রেল ডিপোর পরিচালন ব্যবস্থাপক মো. রবিউল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

২০১৮ সালে করা দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, ১৫ বছরে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে। ২০২৩ সালের মার্চে পাইপলাইনটি চালু হওয়ার পর এ পর্যন্ত এর মাধ্যমে বাংলাদেশে মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭ মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে।

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মেট্রিক টন উচ্চগতির ডিজেল পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। গত মার্চে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হলে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ১৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করা হয়েছিল। এরপর এপ্রিল, মে ও জুলাইয়েও ভারত থেকে যথাক্রমে ২৫ হাজার, ৮ হাজার ও ৮ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করে বাংলাদেশ।

চলতি বছরের আগস্টে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন এই চালান এসেছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ৭৮ শতাংশ নিট কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের ৭৮ শতাংশ নিটওয়্যার কারখানায় উৎপাদন আংশিকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্পের সমস্যা সমাধানে সংসদ ও রাজপথে সরব থাকার কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকার মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিরোধী দলের ভূমিকার প্রশংসা করেন ব্যবসায়ী নেতারা। একই সঙ্গে পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও খাতটির বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন তারা।

বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, পোশাক শিল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করতেই তারা মতবিনিময় সভায় এসেছেন। দেশের পোশাক শিল্পের উন্নয়নে সরকারি দলের পাশাপাশি বিরোধী দলের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে জানান তিনি। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিজিএমইএর নেতারা।

এর আগে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে পোশাক শিল্পের উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে জরিপের তথ্য প্রকাশ করে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। সংগঠনটির সক্রিয় সদস্য কারখানার প্রায় ২০ শতাংশের তথ্যের ভিত্তিতে করা ওই জরিপে দেখা যায়, ৭৮ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। নিটিং, ডায়িং ও পোশাক সেলাইয়ের উৎপাদন ৩৭ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

জরিপে আরও দেখা যায়, স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় গ্যাস সরবরাহে গড়ে ৭৮ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। একই সময়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় আগের তুলনায় গড়ে প্রায় ২০০ শতাংশ বেড়েছে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, পোশাক শিল্পের সমস্যা সমাধানে জামায়াতে ইসলামী সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই সরব থাকবে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ শিল্প খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

পড়ুন : জাতিসংঘ অধিবেশনে মাহমুদ আব্বাসকে আবারও ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন