রাজশাহীতে একটি ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে এক নারীসহ পুলিশের কর্মকর্তা মাহবুব আলমকে দরজা ভেঙে উদ্ধার করেছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। শুক্রবার সকালে নগরীর নাদির হাজীর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে মতে জানা যায় , সকালে ওই ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া-শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় মাহবুব আলম ও তাঁর সঙ্গে থাকা এক নারীকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাস্থলে মাহবুব আলমের আরেক স্ত্রী আন্নী আক্তারও উপস্থিত ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। সেখানে তিনি মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে একাধিক বিয়ে ও বিভিন্ন নারীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে অভিযোগ করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারের পর মাহবুব আলম তাঁর সঙ্গে থাকা নারীকে নিজের বিবাহিত স্ত্রী বলে দাবি করেন। বিষয়টি যাচাই করতে দুজনকেই নগরীর চন্দ্রিমা থানায় নেওয়া হয়।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গাজীউর রহমান বলেন, ‘ওসি মাহবুব আলমকে এখন পর্যন্ত আটক করা হয়নি। তাঁর সঙ্গে থাকা নারীকে তিনি স্ত্রী দাবি করেছেন। তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক যাচাই-বাছাইয়ের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।’
মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে অতীতেও অভিযোগ ওঠার তথ্য রয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে তাঁর দপ্তরে এক ব্যক্তির সঙ্গে খাম আদান-প্রদানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তাঁকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। ওই ঘটনায় তদন্তের কথাও জানিয়েছিল আরএমপি।
গত ২০২৩ সালে চারঘাট মডেল থানার ওসি থাকাকালে এক নারীর কাছে সাত লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠে মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তী সময়ে পুলিশের তদন্তে ছড়িয়ে পড়া অডিওটি তাঁরই কথোপকথনের বলে উল্লেখ করা হয়। তবে মাহবুব আলম তখন অডিওটি সম্পাদিত বলে দাবি করেছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে বলে গণমাধ্যমকে জানায়।
পড়ুন : ত্রিশালে বাসের ধাক্কায় সিএনজি-মাহিন্দ্রা দুর্ঘটনা, নিহত ২
সা/


