বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: প্রযুক্তির নতুন প্রশ্ন এআই

বিজ্ঞাপন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবে আজ আমাদের রাষ্টে্রর সিকিউরিটি, অর্থনৈতিক সিকিউরিটি এমনকি ব্যক্তিগত সিকিউরিটিও হুমকির মুখে। সাইবার সিকিউরিটিও নাজুক। ইতোপূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে অর্থ চুরি হয়েছে এতে এআই এর প্রভাব ছিলো কিনা তা নিয়ে ভাবতে হবে। ফেইক নিউজের মাধ্যমে আজ ব্যক্তিত্বকে বদলে ফেলা হচ্ছে। সত্যকে কে গুজব, গুজবকে সত্যে পরিণত করা হচ্ছে। এআই এর অপব্যবহারে দুনিয়াটা অচেনা হয়ে যাচ্ছে। এ যেন একটা যুদ্ধ। তবে এআই এর উপর জ্ঞানের কতৃর্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে, সেটা হলো ‘কমনসেন্স’। এআই এর অনেক সেন্স আছে, কিন্তু মানুষের মত কমনসেন্স নেই। সুপার এআই আসার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিশ্বসংস্থার মাধ্যমে বিশ^ সমঝোতা সৃষ্টি করতে হবে। বৈশি^ক আইনি বিধান প্রয়োজন। এআই আজ সব ক্ষেত্রে নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করছে। এমন কি যারা এটা বানিয়েছে তারাও নিরাপত্তা ঝঁুকিতে পড়ছে। বর্তমান অর্থনীতি এআই এর নয়, এর মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সৃষ্টি হবে। বিশে^ বহু মানুষের কাজ চলে যাবে। এআই বিকল্প কাজ সৃষ্টি করতে আসেনি। তবে এআই নিয়েই আমাদের বাঁচতে হবে। আজ (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার) এফডিসিতে “ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও মানব সভ্যতার অস্তিত্বের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বর্ষিয়ান বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রযুক্তি মানুষের জন্য আশির্বাদ হলেও এর অপব্যবহার সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিকিৎসা বিজ্ঞান, রোগ নির্ণয়, নতুন ওষুধ উদ্ভাবন, কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি, দুর্যোগের পূর্বাভাস, মানব শ্রমের অপচয় কমানো, ব্যবসা—বাণিজ্য, গ্রাহক সেবাসহ জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই নানাভাবে সহযোগিতা করছে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারের কারণে ভূয়া ছবি, ভূয়া ভিডিও, অডিও ক্লোনিং এর মাধ্যমে সমাজে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। কন্ঠ ও চেহারা নকল করে ভূয়া কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে প্রতারণা করা হচ্ছে। এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে যেভাবে অপসাংবাদিকতা শুরু হয়েছে, তা প্রতিরোধ করা না গেলে মূলধারার গণমাধ্যম হুমকির মুখে পড়বে। মানুষ সংবাদের বিশ^াস যোগ্যতাহারাবে। অপসাংবাদিকতা গণমাধ্যমকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাড় করাবে।

জনাব কিরণ আরো বলেন, বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশে^র দেশগুলো মারাত্মক সাইবার নিরাপত্তা হুমকিতে রয়েছে। অথচ আমাদের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা অনেক অংশেই পার্শ^বর্তী দেশের হাতে। আমাদের ব্যান্ডউইথ চাহিদার সিংহভাগই আসে ভারত থেকে। সে দেশের বিভিন্ন গোয়েন্দা ও তদন্ত সংস্থা আমাদের ডিজিটাল ডেটা ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নজরদারি করতে পারে। এতে আমাদের যোগাযোগবার্তা ও তথ্যাদি অন্য করো হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

“কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য আশির্বাদ নয়, অস্তিত্বের সংকট” শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়কে পরাজিত করে সরকারি তিতুমীর কলেজ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, ড. শাকিলা জেসমিন, মাইদুর রহমান রুবেল ও আনোয়ার হোসেন। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। ছায়া সংসদটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও মানব সভ্যতার অস্তিত্বের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ছায়া সংসদে বিজয়ী দলের বিতার্কিকদের ট্রফি হাতে বর্ষিয়ান বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণের সাথে দেখা যাচ্ছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও মানব সভ্যতার অস্তিত্বের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ছায়া সংসদে বিজয়ী দলের বিতার্কিকদের ট্রফি প্রদান করছেন বর্ষিয়ান বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও মানব সভ্যতার অস্তিত্বের চ্যালেঞ্জ নিয়ে ছায়া সংসদে অংশগ্রহণকারী দলের বিতার্কিকদের ট্রফি হাতে বর্ষিয়ান বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণসহ বিচারকদের সাথে দেখা যাচ্ছে।

পড়ুন:গাজীপুরে রক্ষক যখন ভক্ষক, চন্দ্রা বনবিটে সংরক্ষিত বনভূমি কতটা নিরাপদ

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন