যশোরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগের দুই বছর পর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পাসের সার্টিফিকেট, ১৬ বছর বয়সে আবেদন ও ১৭ বছর বয়সে চাকরিতে যোগদানের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ শিহাব উদ্দীন কৃষিশিক্ষা বিষয়ে কেশবপুরের গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন। তিনি উপজেলার নারায়নপুর গ্রামের মৃত জালাল উদ্দীন শেখের ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোহাম্মদ শিহাব উদ্দীনের জন্ম ১৯৮৭ সালের ১৩ জানুয়ারি। ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর মাত্র ১৬ বছর ১১ মাস ৪ দিন বয়সে তিনি গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (কৃষি) পদে চাকরির জন্য তিনি আবেদন করেন। এ সংক্রান্তে নিয়োগ বোর্ড বসে একই সালের ১০ এপ্রিল, যা অনুমোদন পায় ৭ মে, নিয়োগপত্র প্রদান করা হয় ২৬ জুন এবং ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর মাত্র ১৭ বছর ১১ মাস ১৪ দিন বয়সে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
জমা দেওয়া সনদ সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদ শিহাব উদ্দীন ২০০১ সালে আরুয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেন। এরপর গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কৃষিশিক্ষা শিক্ষক পদে তিনি ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর যোগ দেন। তবে ডিপ্লােমা ইন এগ্রিকালচার বিষয়ে ২০০৬ সালে পাস করা সনদ জমা দেন। আবার এই সনদ প্রদানের তারিখ ২০১২ সালের ১৬ জুন। যা চাকরির নীতিমালার পরিপন্থী। এদিকে ২০১৯ সালে তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস (বিএ) সম্পন্ন করেছেন বলে জমা দেওয়া সনদ সূত্রে জানা গেছে। যার ফলাফল প্রকাশ হয়েছে ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল।
জানতে চাইলে গড়ভাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) অঞ্জন কুন্ডু বলেন, আমার জানামতে তার সকল কাগজপত্র ঠিক আছে। যদি ঠিক না থাকতো তাহলে সম্প্রতি এনটিআরসিএ ও মন্ত্রণালয়ের হওয়া বিভিন্ন তদন্তে তা ধরা পড়তো।
১৮ বছর বয়সের পূর্বে চাকরিতে যোগদানের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০০৪ সালে তিনি যখন যোগ দিলেন সে সময় এই নিয়ম ছিল। এসএসসি/দাখিলে পাস করার পর ডিপ্লোমায় অধ্যায়নরত অবস্থায় মাধ্যমিকে শিক্ষক পদে যোগ দিতে পারবেন।
অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ শিহাব উদ্দীন বলেন, বয়সের কারণে যদি সমস্যা হতো তাহলে নিয়োগ বোর্ড আমাকে নিয়োগ দিতো না। বয়স কোনো সমস্যা না বিধায় যাচাই-বাছাই শেষে নিয়োগ বোর্ড আমাকে নিয়োগ দিয়েছে।
দাখিল পাসে নিয়োগের বিষয়ে তিনি বলেন, সে সময় ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন করা লাগতো। সে সময় বলা ছিল দাখিল পাস ও ডিপ্লোমায় চতুর্থবর্ষে অধ্যায়নরত থাকলে নিয়োগে যোগ্য হবে। সে কারণে আমি নিয়োগ পেয়েছি।
জানতে চাইলে যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. মাহফুজুল হোসেন বলেন, ২০০৪ সালে শিক্ষক পদে যোগ দিয়ে ২০০৬ সালে পাস করা সার্টিফিকেট দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ অনুযায়ী ওই শিক্ষক যদি নিয়োগ পেয়ে থাকেন তাহলে তদন্তপূবর্ক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন : শিবপুরে এক সপ্তাহ নিখোঁজের পর মুরগির ময়লার গর্তে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার


