বিজ্ঞাপন

মেঘনার ভয়াল স্রোতে নিভে গেল তিন শিক্ষার্থীর প্রাণ

বিজ্ঞাপন

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে স্রোতের টানে তলিয়ে গিয়ে তিন শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় পাঁচ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর জমজ দুই ভাইসহ তিন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সন্তান হারিয়ে পরিবারগুলোতে চলছে আহাজারি।

রোববার দুপুরের দিকে সোনারগাঁ উপজেলার ভাটি বন্দর এলাকার মেঘনা নদীতে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোগরাপাড়া এইচ জি জি এস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী বন্ধু মেঘনা নদীর তীরবর্তী ভাটি বন্দর এলাকার বাঁশবনে ঘুরতে যায়। একপর্যায়ে তারা নদীতে গোসল করতে নামে। নদীতে নামার কিছুক্ষণ পরই প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে তিন শিক্ষার্থী পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে।

এ সময় বিপদ বুঝতে পেরে তারা চিৎকার করে সাহায্য চাইতে থাকে। তাদের চিৎকার শুনে নদীর পাশে থাকা এক নারী দ্রুত এগিয়ে যান। তিনি সাহস করে পানিতে নেমে একজন শিক্ষার্থীর হাত ধরে টেনে তীরে তুলে আনতে সক্ষম হন। তবে অন্য তিন শিক্ষার্থীকে প্রবল স্রোত মুহূর্তের মধ্যেই নদীর গভীরে নিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন নদীর তীরে জড়ো হন। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের স্বজনদের খবর দেওয়া হলে তারাও ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয় নৌকা নিয়ে অনেকে নিজেদের উদ্যোগে নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ ও সোনারগাঁ থানা পুলিশকে।

খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদীতে অভিযান শুরু করে। নদীর তীব্র স্রোত ও পানির গভীরতার কারণে উদ্ধারকাজে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে নদীর বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানোর পর প্রথমে নিখোঁজ জমজ দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জমজ দুই ভাই আসেকীন ও আরেফিন বাড়ীমজলিশ এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে। তারা মোগরাপাড়া এইচ জি জি এস স্মৃতি সরকারি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এরপর সন্ধ্যার দিকে উদ্ধারকারী দলের তৎপরতায় অপর শিক্ষার্থী আবিরের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। আবির বাড়ীমজলিশ এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসকারী আবদুল আলীর ছেলে। তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। সে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

তিন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্বজন, সহপাঠী ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। নদীর তীরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। সহপাঠীদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়ে। একইসঙ্গে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাটি বন্দর এলাকার ওই নদীতীরবর্তী স্থানে প্রতিবছরই গোসল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। নদীর স্রোত অনেক সময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। ফলে কিশোর-কিশোরীরা সেখানে গোসল করতে নেমে বিপদের মুখে পড়ে।

তাদের দাবি, দুর্ঘটনা এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভাটি বন্দর এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীরকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে সাধারণ মানুষের নদীতে নামা ও গোসলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তারা আরও বলেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা দিলেই হবে না, নিয়মিত নজরদারি এবং স্থানীয়ভাবে সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালাতে হবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নদীতে গোসলের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ সময়ের অভিযানের পর মেঘনা নদী থেকে তিন শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এদিকে একসঙ্গে তিন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় মোগরাপাড়া ও বাড়ীমজলিশ এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি আনন্দের সময় মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে স্বজন হারানোর বেদনায়। নদীতে গোসল করতে নামার আগে পানির গভীরতা, স্রোত ও ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

পড়ুন : আখাউড়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে যুবদলের মশক নিধন অভিযান

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন