এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সকালটা কেটেছে দারুণ এক জয়ে। পুরুষ কাবাডিতে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে ৩৯-৩৫ পয়েন্টে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আসর শুরু করেছে লাল-সবুজের দল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই জয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন আরও বড় সম্ভাবনা। আজ বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে হারাতে পারলে এশিয়াডে পদক পুনরুদ্ধারের পথে অনেকটাই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
দক্ষিণ কোরিয়া কাবাডিতে শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে রৌপ্যপদক জিতেছিল তারা। সেই দলের বিপক্ষেই শুরুতে কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে বাংলাদেশ। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের লড়াই ছিল সমানে সমান। বাংলাদেশ ১৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করলেও দক্ষিণ কোরিয়ার পয়েন্ট ছিল ১৬। মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধেও জমে ওঠে লড়াই। বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা আক্রমণ ও রক্ষণে পরিকল্পিতভাবে খেলে ব্যবধান ধরে রাখে। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আরও ২২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়া পায় ১৯ পয়েন্ট। ফলে পুরো ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয় ৩৯-৩৫ পয়েন্টে। চার পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেলেও ম্যাচজুড়ে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জয়ের পেছনে নির্দিষ্ট কৌশল কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের কোচ ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আব্দুল জলিল। ম্যাচের আগে কোরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড়কে আলাদাভাবে মার্ক করার পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। খেলোয়াড়েরা কোচের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করায় পরিকল্পনা কাজে দিয়েছে।
আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমরা কোরিয়ার দুই খেলোয়াড়কে মার্ক করেছিলাম। খেলোয়াড়েরা নির্দেশনা অনুসরণ করেছে। এজন্য ম্যাচটি আমাদের পক্ষে এসেছে। যদিও অনেক লড়াই হয়েছে।’
তবে কোরিয়ার বিপক্ষে জয় উদযাপনের সময় নেই বাংলাদেশের। একই দিনে বিকেলে চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে খেলতে হবে দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রথম ম্যাচের জয় থেকে আত্মবিশ্বাস পেলেও পরের ম্যাচটিকেই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন কোচ। কারণ চাইনিজ তাইপেকে হারাতে পারলে সেমিফাইনালে ওঠার পথ অনেকটাই সহজ হবে বাংলাদেশের জন্য।
আব্দুল জলিল বলেন, ‘তাইপেকে হারাতে পারলে আমরা পদকের খুব কাছাকাছি থাকব। মূলত তাইপের ম্যাচের ওপরই অনেকাংশে পদক নির্ভর করছে। এক দিনে দুই ম্যাচ কোনো অজুহাত দেব না। কোরিয়াকে হারিয়ে খেলোয়াড়েরা চাঙা রয়েছে, কোনো ইনজুরি নেই।’
পুরুষ কাবাডিতে বাংলাদেশ রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। এই গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, চাইনিজ তাইপে ও স্বাগতিক জাপান। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি দলের অবস্থানই গুরুত্বপূর্ণ। দুই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল সেমিফাইনালে জায়গা পাবে। অর্থাৎ কাবাডিতে মোট চারটি দল সেমিফাইনালে খেলবে এবং সেখান থেকেই নিশ্চিত হবে পদকের লড়াই।
বাংলাদেশের গ্রুপে ভারতকে ধরা হচ্ছে শীর্ষ ফেভারিট হিসেবে। ফলে সরাসরি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াই কঠিন। তবে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্টের লড়াইয়ে এগিয়ে গেছে। এখন চাইনিজ তাইপের বিপক্ষে জয় পেলে রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সকালের জয় তাই বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, বরং পুরো টুর্নামেন্টে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাসও। কোরিয়ার বিপক্ষে পাওয়া চার পয়েন্টের জয়কে পুঁজি করে বিকেলের ম্যাচে চাইনিজ তাইপের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করতে পারে এশিয়াডে বাংলাদেশের পুরুষ কাবাডি দলের পদকের স্বপ্ন কতটা বাস্তব রূপ পাবে।
পড়ুন:‘বুড়োদের’ দল নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিশ্ব রেকর্ড
ইমি/


