বিজ্ঞাপন

রিয়ালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ডার্বির অ্যাটলেটিকো

বিজ্ঞাপন

লা লিগার মাদ্রিদ ডার্বিতে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে ১০ জনের রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রিয়ালের ডিফেন্ডার ডিন হুইসেন সরাসরি লাল কার্ড দেখার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় দিয়েগো সিমিওনের দল। পরে গ্রিমালদো ও জোনাথন ডেভিডের গোলে জয় নিশ্চিত করে অ্যাটলেটিকো। শেষ দিকে আন্তোনিও রুডিগার একটি গোল শোধ করলেও হার এড়াতে পারেনি রিয়াল।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের মধ্যে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে আক্রমণভাগের তারকাদের নিয়ে মাঠে নামলেও কোনো দলই পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহামকে শুরু থেকেই কড়া নজরদারিতে রাখে অ্যাটলেটিকোর রক্ষণভাগ। ফলে রিয়ালের আক্রমণভাগ নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেনি।

অন্যদিকে অ্যাটলেটিকোও প্রথমার্ধে রিয়ালের রক্ষণে বড় কোনো ফাটল ধরাতে পারেনি। দুই দলই মাঝমাঠে বল দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকায় গোলের সুযোগ কম তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথম ৪৫ মিনিট।

বিরতির পরপরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বক্সের মধ্যে জুলিয়ানো সিমিওনেকে ফাউল করে বসেন রিয়ালের ডিফেন্ডার ডিন হুইসেন। প্রথমে ঘটনাটি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ভিএআরের সহায়তা নেন রেফারি। পর্যালোচনার পর অ্যাটলেটিকোকে পেনাল্টি দেওয়ার পাশাপাশি হুইসেনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় রিয়াল মাদ্রিদ।

স্পট কিক থেকে গোল করে অ্যাটলেটিকোকে এগিয়ে দেন গ্রিমালদো। একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ায় রিয়ালের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয় স্বাগতিকরা। সংখ্যাগরিষ্ঠ খেলোয়াড়ের সুবিধা কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে সিমিওনের দল।

এরই ধারাবাহিকতায় ৫৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে অ্যাটলেটিকো। জুলিয়ানো সিমিওনের বাড়ানো ক্রস থেকে গোল করেন কানাডিয়ান ফরোয়ার্ড জোনাথন ডেভিড। টানা তিন ম্যাচে এটি তার তৃতীয় গোল। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও অনেকটাই নিজেদের হাতে নিয়ে নেন ডেভিড।

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায়। তবে ১০ জন নিয়ে খেলায় আক্রমণে বাড়তি চাপ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়ে তাদের জন্য। বরং অ্যাটলেটিকোই ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ পায়। আলভারেজের নেওয়া একটি শট দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। ফিরতি বলে গ্রিমালদোর হেডও গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন ইব্রাহিমা কোনাতে। ফলে তৃতীয় গোল পাওয়া হয়নি অ্যাটলেটিকোর।

ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদ একটি গোল শোধ করে। বার্নার্দো সিলভার ক্রস থেকে হেড করে অ্যাটলেটিকোর জালে বল পাঠান আন্তোনিও রুডিগার। গোলটি রিয়ালকে ম্যাচে ফেরার আশা দেখালেও সমতা ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় সময় আর হাতে ছিল না।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ২-১ গোলের জয় নিশ্চিত হয় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের। মাদ্রিদ ডার্বিতে গুরুত্বপূর্ণ এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দিয়েগো সিমিওনের দল। অন্যদিকে মৌসুমের দ্বিতীয় হারে রিয়াল মাদ্রিদ বার্সেলোনার চেয়ে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। ফলে শীর্ষস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে রিয়ালের জন্য ডার্বির এই হার হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কা।

পড়ুন:‘বুড়োদের’ দল নিয়ে জিম্বাবুয়ের বিশ্ব রেকর্ড

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন