বিজ্ঞাপন

টাঙ্গাইলে ব্রীজের নির্মাণ কাজে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই

বিজ্ঞাপন

টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ব্রীজে রাতের আঁধারে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ব্রীজে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়েছে।

এঘটনায় সোমবার দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে ব্রীজটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই দিনের কাজ রাতের আঁধারে করা হচ্ছিল। এতে সন্দেহ হলে তারা গোপনে নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেন। রাতে একপর্যায়ে ব্রীজের কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি দেখতে পান। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, বাসাইল উপজেলাধীন বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০.০৬ মিটার দৈর্ঘ্য গার্ডার ব্রীজ পূনঃনির্মাণের কাজ পাই মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রীজটির কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে সেপ্টেম্বর মাসে ও শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে। পরে এই ব্রীজের কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এই ব্রীজের ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ২০ শতাংশ কাজ বাকি আছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেন, আমাদের এই মাইজখাড়ার ভেতরে যে ব্রীজটি হচ্ছে, এই ব্রীজে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। সরকার যে টাকা দিল, এই টাকাগুলো তাহলে গেল কই? আর এতো দুর্নীতি করতেছে আমাদের এই ব্রীজে! এই ঠিকাদারের সাথে আরও হয়তো স্থানীয় মানুষ জড়িত আছে। নয়তো ঠিকাদার তো এই জায়গায় এসে এভাবে সাহস পাবে না বাঁশ দিয়ে ঢালাই করার। সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক ও বিচার চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, ব্রীজটির কাজ করবে দিনে, তারা কাজ করছে রাতে। রাতে এলাকার ছেলেরা ব্রীজে দেখে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দিতেছে। কিছু বালি-সিমেন্ট ও বাঁশ শুধু ঢালাই দিতেছে।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম বলেন, এই গ্যাপগুলোর ভেতরে খোলা আপনার ভেতরের তো শাটার বের করার সুযোগ নাই। বড়গুলোর ভেতরে শাটার দিয়ে কাজ করেছি, আর ওইগুলো এই গ্যাপ দিয়ে বের করেছি। আর এইটা বাঁশ দিয়ে স্লাব বানিয়ে ওপরে সিমেন্টের একটা বস্তা দিয়ে খাঁচা দিয়ে আমরা ঢালাই করেছি।

এ ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ব্রীজের নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। তবে এ কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না। এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের কাজ। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি অবগত হয়ে সরেজমিনে ব্রীজটি পরিদর্শন করি। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পড়ুন : অনিশ্চয়তার দিন শেষ, এমপি ধলুর উদ্যোগে ঘর পেলেন দুই অসহায় পরিবার

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন