মেটার নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক অ্যাপ মিউজ (Muse) বাজারে আসার পর অল্প সময়ের মধ্যেই উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যবহারকারী আকৃষ্ট করছে। বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অ্যাপটোপিয়ার (Apptopia) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বাজারে আসার প্রথম ১২ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় মিউজ যতবার ইনস্টল হয়েছে, একই সময়ের তুলনায় সেই সংখ্যা চ্যাটজিপিটির চেয়ে বেশি। শুধু ইনস্টলের সংখ্যায় নয়, দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর হিসাবেও মিউজ এগিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে এই পরিসংখ্যান মেটা বা ওপেনএআইয়ের নিজস্ব তথ্য নয়। অ্যাপটোপিয়া বিভিন্ন তথ্য ও বাজারের ডেটা বিশ্লেষণ করে এসব সংখ্যা অনুমান করেছে। ফলে মিউজের প্রকৃত ব্যবহারকারী সংখ্যা নিয়ে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
মিউজ ও চ্যাটজিপিটির প্রাথমিক জনপ্রিয়তার তুলনা সরাসরি করা কিছুটা কঠিন। এর অন্যতম কারণ হলো, চ্যাটজিপিটি মুঠোফোনে প্রথম চালুর সময় এটি বিশ্বজুড়ে মূলত আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। অন্যদিকে মিউজ বর্তমানে আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড—দুই ধরনের স্মার্টফোনেই ব্যবহার করা যাচ্ছে। তবে মিউজের কার্যক্রম এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
এই পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে অ্যাপটোপিয়া দুই অ্যাপের প্রথম ১২ দিনের যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার আইফোন ব্যবহারকারীদের তথ্য আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করেছে। সেই হিসাবে দেখা গেছে, মিউজ প্রথম ১২ দিনে প্রায় ১৮ লাখবার ইনস্টল হয়েছে। একই সময়ে চ্যাটজিপিটির ইনস্টলের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ লাখ। অর্থাৎ একই বাজার ও একই ধরনের ডিভাইসের তুলনায় মিউজের ইনস্টল সংখ্যা বেশি ছিল।
অ্যাপটোপিয়ার আরেক হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে বাজারে আসার প্রথম ১২ দিনে মিউজ মোট প্রায় ২৮ লাখবার ইনস্টল হয়েছে। এই সংখ্যা অ্যাপটির প্রাথমিক বিস্তারের গতি সম্পর্কে ধারণা দেয়। তবে যেহেতু এটি তৃতীয় পক্ষের অনুমান, তাই মেটার অভ্যন্তরীণ তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত ইনস্টলের সংখ্যা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপ স্টোরেও মিউজ দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে বলে বিভিন্ন বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বাজারে আসার পরপরই অ্যাপটি সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। পরে সেটি উঠে আসে প্রথম অবস্থানে। আরেক বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অ্যাপফিগারসের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপ স্টোরে মিউজের ইনস্টলের সংখ্যা ১০ লাখের বেশি হয়েছিল।
মিউজের ব্যবহারকারীর সক্রিয়তার চিত্রও নজর কেড়েছে। অ্যাপটোপিয়ার হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিউজের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ৪২ হাজার। একই সময় চ্যাটজিপিটির দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল প্রায় ২ লাখ ৩১ হাজার। অর্থাৎ দৈনিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মিউজ দ্রুত ব্যবহারকারীদের ধরে রাখতে পারছে বলে তৃতীয় পক্ষের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে।
শুধু আইফোন ব্যবহারকারীদের হিসাব বিবেচনা করলেও মিউজ এগিয়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাপটোপিয়া। প্রতিষ্ঠানটির অনুমান অনুযায়ী, মিউজের দৈনিক সক্রিয় আইফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজার। এই পরিসংখ্যানও মেটার প্রকাশিত কোনো অভ্যন্তরীণ তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি নয়।
মিউজের দ্রুত জনপ্রিয়তার পেছনে মেটার বিদ্যমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ব্যবহারকারীভিত্তি ভূমিকা রাখতে পারে বলে বাজার বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে মিউজের সংযোগ রয়েছে। ব্যবহারকারীরা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও মেটার এআই সেবাগুলোর সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। ফলে আগে থেকেই মেটার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন—এমন মানুষের কাছে নতুন এআই অ্যাপটি দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছে।
অ্যাপটোপিয়ার তথ্যেও মিউজ ব্যবহারকারীদের সঙ্গে মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্মের সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, মিউজ ব্যবহারকারীদের ৯৫ শতাংশের বেশি একই সঙ্গে ফেসবুক ব্যবহার করেন। আর প্রায় ৬৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ইনস্টাগ্রামও ব্যবহার করেন। এ তথ্য থেকে বোঝা যায়, মিউজের প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের বড় অংশ মেটার অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে আগে থেকেই যুক্ত।
তবে মিউজের এই প্রাথমিক সাফল্য দীর্ঘমেয়াদে কতটা টেকসই হবে, তা এখনো বলা যাচ্ছে না। নতুন কোনো অ্যাপ বাজারে আসার পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে প্রচারণা, কৌতূহল এবং বিদ্যমান ব্যবহারকারীভিত্তির কারণে দ্রুত ডাউনলোড বাড়তে পারে। পরবর্তী সময়ে ব্যবহারকারীরা নিয়মিত অ্যাপটি ব্যবহার করছেন কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এ ছাড়া মিউজ বর্তমানে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় চালু থাকায় এর বৈশ্বিক সম্ভাবনা যাচাই করার সুযোগও সীমিত। ভবিষ্যতে মেটা যদি আরও বেশি দেশে অ্যাপটি চালু করে, তাহলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ও সক্রিয়তার চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে।
মেটা এখন পর্যন্ত মিউজের প্রাথমিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। ফলে অ্যাপটির প্রকৃত ইনস্টল, দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী কিংবা ব্যবহারকারীদের ধরে রাখার হার সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অ্যাপটোপিয়া ও অ্যাপফিগারসের মতো তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া তথ্যকে তাই বাজারের প্রাথমিক ধারণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তারপরও প্রাথমিক পরিসংখ্যান মেটার নতুন এআই অ্যাপটির দ্রুত বিস্তারের একটি চিত্র তুলে ধরছে। বিশেষ করে একই সময়ের আইফোন ইনস্টল এবং দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর হিসাবে মিউজের এগিয়ে থাকার অনুমান প্রযুক্তি বাজারে আগ্রহ তৈরি করেছে। মেটার বিশাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তি, একাধিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে এআই সেবার সংযোগ এবং স্মার্টফোনে সহজে ব্যবহারের সুযোগ মিউজের বিস্তারে ভূমিকা রাখছে কি না, তা ভবিষ্যতের ব্যবহারকারীর তথ্যেই আরও স্পষ্ট হবে।
পড়ুন:নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত সফর, থাকছে একাধিক বৈঠক
ইমি/


