নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় অবৈধভাবে সার বিক্রি এবং প্রচলিত ঔষধ আইন লঙ্ঘনের দায়ে পৃথক তিনটি স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পরিচালিত এসব অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অনুমোদনহীন ৫৩ বস্তা সার জব্দ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের জামধলা বাজারে ‘মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্স’ নামের দোকানে অভিযান চালানো হয়। লাইসেন্স বা কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই সার বিক্রি ও মজুতের দায়ে ‘সার ব্যবস্থাপনা আইন ২০০৬’ অনুযায়ী ওই দোকানের স্বত্বাধিকারী মো. আরিফুল ইসলামকে (৪৫) ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। তিনি জামধলা গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান ও মৃত ফিরোজা খাতুনের ছেলে।
এ সময় দোকানটি থেকে ৫৩ বস্তা সার জব্দ করা হয়। জব্দকৃত সারের বিষয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। এই অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন। এছাড়াও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পূর্বধলা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাবিবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
এর আগে, একই দিন উপজেলা সদরের হাসপাতাল রোড এলাকায় আরও দুটি পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও শফিকুল ইসলাম। সেখানে ঔষধ প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান চালানো হয়।
জানা যায়, ‘ঔষধ আইন ২০২৩’ অনুযায়ী আইন অমান্য করার অপরাধে পূর্বধলার হাসপাতাল রোডের মো. আশরাফ উদ্দিন এবং শহিদুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তিকে পাঁচ হাজার টাকা করে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। এই দুটি অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক মো. শামীম হোসেন।
কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে পরিচালিত এসব অভিযান প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম বলেন, “কৃষি উপকরণ থেকে শুরু করে জীবনরক্ষাকারী যেকোনো পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের অবশ্যই যথাযথ অনুমোদন নিতে হবে এবং প্রচলিত আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অনুমোদনহীনভাবে সার বিক্রি, মজুত বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং সারের বাজারে যেন কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
উপজেলা প্রশাসন এবং ঔষধ প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের যৌথ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ। তারা মনে করছেন, এ ধরনের নিয়মিত নজরদারির ফলে বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রান্তিক কৃষকরা সঠিক দামে সার ও ওষুধ ক্রয় করতে পারবেন।
পড়ুন : দিনাজপুরে হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার


