গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের পরিবর্তে ভারতের সঙ্গে গ্যারান্টি ক্লজসহ নতুন চুক্তি করতে চায় বাংলাদেশ। প্রাপ্যতার ভিত্তিতে সমানভাবে পানি পাওয়ার নিশ্চয়তা রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান-তেজগাঁও লিঙ্ক রোডের আলোকি কনভেনশন সেন্টারে ‘কল্লোলিনী: এ রিভার ডায়ালগ ২০২৬’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপের উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।
গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, শীত বা শুকনা মৌসুম বা বর্ষা মৌসুমে কি ধরনের হবে, সেখানে কোন সময় কতটা পানির প্রয়োজন, সেটার একটা হিসাব রয়েছে। সে হিসাব অনুযায়ী এখানে একটা গ্যারান্টি ক্লজ ইনক্লুড করা হয়। প্রাপ্যতার ভিত্তিতে আমি যেন সঠিক সময়ে সঠিক পানিটা পাই সেটা হল আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ এবং গুরুত্বপূর্ণ।
শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না পাওয়া এবং চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ না থাকলে বাংলাদেশকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে মন্তব্য করেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী।
তিনি আরও বলেন, এটা একটা মরুভূমি হয়ে যাবে। কৃষিকাজ ও মাছের উৎপাদন ব্যাহত হবে। সর্বোপরি একটা অর্থনৈতিক যে রূপান্তর সেই রূপান্তর থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ব এবং সাধারণ মানুষ সুবিধা পাবে না। যেটা দেশের জন্য সবচেয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হবে। বর্ষা মৌসুমে পানির ঢলে বন্যা বা অতি প্লাবনেও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো।
তিস্তা ব্যারেজ নির্মাণের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফিজিবিলিটি স্টাডি ইতোমধ্যে সরকারের হাতে এসেছে। এ কাজে টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্সও নেওয়া হচ্ছে।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি অনেকগুলা ফিজিবিলিটি স্টাডি হাতে নিয়েছে। যার মধ্যে টেকনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্স রয়েছে, আমরা তাদের সেই সাপোর্ট নিচ্ছি। খুব শিগগিরই ম্যারেজ করার জন্য আমাদের যে স্টাডি কমপ্লিট করে দৃশ্যমান করা দরকার সেই দিকে আমরা নজর দিয়েছি। সে কাজটা দ্রুত আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আমরা দ্রুত করার জন্য কাজ শুরু করেছি।
এর আগে জাতীয় সংলাপের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানী বলেন, নদী বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। পরিবর্তন ও প্রাণের কারণে নদীর ওপর চাপ বাড়ছে। দেশের নদ-নদীগুলোকে রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, নদীর দূষণ রোধসহ নদী রক্ষায় পলিসি বের করতে হবে। রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত রাখা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বাংলাদেশের নদ-নদীর ভবিষ্যৎ, বিশেষ করে শহরের নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং সুরক্ষায় করণীয় নিয়ে এবারের জাতীয় সংলাপের প্রতিপাদ্য—‘নদীকে জানি, সিদ্ধান্ত নিই একসঙ্গে’।
বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে এ জাতীয় সংলাপের আয়োজন করে ‘টিম ইউরোপ ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট অ্যান্ড এনার্জি’। আয়োজকদের মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, এজেন্স ফ্রঁসেজ দ্য ডেভেলপমেন্ট (এএফডি), নেদারল্যান্ডস দূতাবাস, জিআইজেড ও বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, বিশেষজ্ঞ, গবেষক, নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাত, নদীনির্ভর জনগোষ্ঠী ও তরুণদের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। নদী ব্যবস্থাপনা ও আইনি সুরক্ষা, বাস্তবায়ন, বিনিয়োগ ও জবাবদিহি, স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও তরুণদের অংশগ্রহণ এবং ধারাবাহিক সংলাপ, জ্ঞান বিনিময় ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ—এই চারটি বিষয়ে সংলাপে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পড়ুন :জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ দেবেন আজ
সা/


