সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও সলঙ্গা উপজেলায় চুরি, বিশেষ করে গরু চুরি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সংযোগস্থলে ‘বাঁশকল’ চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে স্থাপিত এসব চেকপোস্টে পুলিশের পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সমন্বয়ে প্রতি রাতে পাহারা ও নজরদারি করা হচ্ছে।
চুরি ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশের নেওয়া এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে রায়গঞ্জ থানা এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাঁশকল স্থাপন করা হয়েছে। রাতের বেলায় এসব চেকপোস্টের মাধ্যমে সন্দেহজনক যানবাহন ও মানুষের চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে রায়গঞ্জ থানা এলাকায় স্থাপিত বাঁশকলগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু। গভীর রাতে তিনি চেকপোস্টগুলো ঘুরে দেখেন এবং সেখানে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পাহারা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম খান বলেন, পুলিশ সুপারের উদ্যোগে ‘বাঁশকল’ চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে রাতের বেলায় সন্দেহজনক যানবাহন ও চলাচল পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গরু চুরিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিকদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, থানায় সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্য থাকলেও স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় রায়গঞ্জ ও সলঙ্গা থানার রাত্রীকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, চুরি প্রতিরোধে পুলিশের এ কার্যক্রমে সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার নিজেও গভীর রাতে সরাসরি যুক্ত থেকে বিভিন্ন বাঁশকল চেকপোস্টের কার্যক্রম তদারকি করছেন। এ কাজে স্থানীয় নাগরিকদের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় গরু চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বাঁশকল বা বাঁশের ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে। এসব চেকপোস্টে পুলিশের পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অপরাধ প্রতিরোধে সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
পড়ুন : কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং সন্দেহে এক রাতে আটক ৬২৪
সা/


