ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জে ৬ বছরের এক কন্যা শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরের দিকে উপজেলার তালশহর পশ্চিম ইউয়নের আন্দিদিল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর বিকেলে উত্তেজিত স্বজন ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত ধর্ষককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুটি ওই গ্রামের প্রবাসী মোজাম্মেল হকের কন্যা। ঘটনার পর পুরো এলাকাজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ধর্ষন পরবর্তী হত্যাকান্ডের শিকার শিশুটির স্বজনেরা জানান,’আজ দুপুরে নামাজ চলাকালিন সময়ে আন্দিদিল গ্রামে কন্যা শিশুটিকে ডেকে নেয় পাশের বাড়ীর শিশুটির চাচাতো চাচা কিশোর জাহিদুল। পরে শিশুটিকে বাসায় না পেয়ে তার মা খোঁজাখুজি শুরু করেন। পরে ধর্ষক জাহিদুলের চাচার বাড়ীর সামনে শিশুটির জুতা পরে থাকতে দেখে শিশুটির মায়ের সন্দেহ হয়। এসময় জাহিদুল শিশুটির মাকে জানায়, তাকে পানি খাইয়ে তার কন্যা অন্যত্র চলে গেছে৷ কিন্তু মায়ের সন্দেহ হয় জাহিদুল শিশুটিকে আটকে রাখতে পারে। তাই জোর করে ধর্ষকের ঘরে প্রবেশ করে তার কন্যার নিথর দেখ দেখতে পান। পরে শিশুটির মায়ের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে জাহিদুল গা-ঢাকা দেয়।
পরে এলাকাবাসী ধর্ষক জাহিদুলকে ধরে উত্তম মাধ্যম দিয়ে তার চাচার বাড়ীতে আটক রাখে। উত্তেজিত এলাকাবাসী তাকে প্রাণে মারার জন্যে উত্তেজিত হলে আশুগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এলাকাবাসীর ও স্বজনেরা ঘাতকের দৃষ্টান্তমূলক দাবী করেন।
সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান, অভিযুক্ত জাহিদুল আটকের পর পুলিশের কাছে ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। প্রত্যাশা করছি আদালতেও সে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করবে। মরদেহ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মনির হোসেন জানান, শিশুটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। শিশুটির শরীরের নানান জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে ধর্ষণের হিস্ট্রি দেখা গেছে, তাই মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্যে বলা হয়েছে।
পড়ুন : সাভারে যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশ


