রাজধানীর গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেখান থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতরা জাসদ কার্যালয়ে গোপন বৈঠক করছিল বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের দাবি, জাসদ কার্যালয়ে আটক ব্যক্তিরা একটি বৈঠক করছিলেন। তাদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী রয়েছেন কিনা, তা যাচাই করা হচ্ছে।
তবে আটক ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি। কোথাও অর্ধশতাধিক, আবার কোথাও শতাধিক ব্যক্তিকে আটকের কথা বলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করেন। এ সময় মিছিল থেকে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধানমন্ডি থেকে তিনজন এবং মোহাম্মদপুর থেকে একজনকে হাতবোমাসহ আটক করে। ধানমন্ডির ওই মিছিলে অংশ নেওয়া অনেকে পরে গুলিস্তানে জাসদের কার্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন। এর আগে ওই কার্যালয়ে শতাধিকের বেশি নেতা-কর্মী জড়ো হয়েছিলেন বলে জানা যায়।
আরও জানা যায়, বিষয়টি জানাজানি হলে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম নয়ন ও পল্টন থানা যুবদলের নেতা-কর্মীরা জাসদ কার্যালয় ঘিরে রাখেন। পরে সেখানে ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন অর রশীদসহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য উপস্থিত হন। পরে বিকেল ৪টার দিকে জাসদের কার্যালয় থেকে একে একে অনেককে হাতকড়া পরিয়ে বের করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন জানান, জাসদের প্রধান কার্যালয়ে জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া হয়েছিল ও বহিরাগত অনেকে অবস্থান করছিলেন, বৈঠক চলছিল। এমন সন্দেহে ক্রাইম ও গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক হেফাজতে নিয়ে পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অভিযান চলমান। তথ্য বিশ্লেষণ ও জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পড়ুন : আওয়ামী লীগ ফিরলে জামায়াত নেতাদেরই চরম মাশুল দিতে হবে: ঝিনাইদহে রাশেদ খান


