বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চরফ্যাশনে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মানববন্ধন

২০১৩ সালের জাতীয়করণের গেজেট থেকে বাদপড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ এবং এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ ও কেজি নীতিমালায় নিবন্ধনের আওতায় না আনার দাবিতে ভোলার চরফ্যাশনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, চরফ্যাশন উপজেলা শাখার উদ্যোগে চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের সভাপতি মো. ইব্রাহিম সভাপতিত্ব করেন। চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এতে অংশ নেন।

মানববন্ধনে সভাপতি বলেন, ২০১৩ সালের ৯ জানুয়ারির ঘোষণায় ২০১২ সালের ২৭ মে-এর আগে প্রতিষ্ঠিত এবং জমির দলিলসহ পাঠদানের অনুমতির জন্য আবেদন করা বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের আওতায় আসার কথা ছিল। তাদের দাবি, সারাদেশে প্রায় ৩১ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও উপজেলা ও জেলা পর্যায় থেকে ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয়ের তথ্য পাঠানো হয়। এর মধ্যে ২৬ হাজার ১৯৩টি বিদ্যালয় জাতীয়করণের আওতায় এলেও প্রায় ৪ হাজার ১৫৯টি বিদ্যালয় বাদ পড়ে।

তিনি আরও বলেন, বাদপড়া এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নিজ নিজ বিদ্যালয়ের কোডে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ২০২২ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাতেও তারা অংশগ্রহণ করেছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাও ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। এরপরও এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ এবং কেজি নীতিমালায় নিবন্ধনের বিষয়ে জটিলতা রয়েছে বলে দাবি করেন শিক্ষকরা।

মানববন্ধনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুব আলম বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের প্রাথমিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। জাতীয়করণের দাবিতে এক যুগের বেশি সময় ধরে শিক্ষকরা আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু এখনো এ দাবির কোনো সুরাহা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, অতীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষকরা পুলিশি বাধা, জলকামান, টিয়ারশেল ও আটকের মুখে পড়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেন। বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল বলেন, ১৯৯৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার পর সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, বাদপড়া বিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশ প্রত্যন্ত গ্রাম ও হাওর এলাকায় অবস্থিত। এসব প্রতিষ্ঠানে নিম্নআয়ের পরিবারের বিপুলসংখ্যক শিশু পড়াশোনা করে। শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আওতায় আনা হলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ার পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন ভোলা জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থবিষয়ক সম্পাদক মো. ছালাহ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. শহিদ উল্লাহ, আইনবিষয়ক সম্পাদক মোসাঃ সাকিয়া, মো. মিজানুর রহমান, মো. ইলিয়াছ, মো. শাহিন আলাল ও মো. জসিম উদ্দিন প্রমুখ ।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মেহেরপুরে দুই কোটি টাকার সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন