হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের কয়েকদিন পর রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ফিরেছে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব সাইনবোর্ড। হামলার পর টাঙানো অন্য সাইনবোর্ডটি সরিয়ে ক্লিনিকটিকে দখলমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী ও ক্লিনিক সংশ্লিষ্টরা সেখানে টাঙানো সাইনবোর্ডটি খুলে ফেলেন। পরে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির নিজস্ব সাইনবোর্ড পুনরায় টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে হামলা ও ভাঙচুরের ক্ষত পুরোপুরি শুকানোর আগেই ক্লিনিকটিতে সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন অংশ মেরামতে কর্মীরা কাজ করছেন। তবে এর মধ্যেও চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। ক্লিনিকের ভেতরে স্বাস্থ্যকর্মীরা অবস্থান করে রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি বাইরে চেয়ার-টেবিল বসিয়েও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর সেকশনে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলার পর তাদের প্রতিষ্ঠানের জায়গায় ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনাটির পর পুলিশ এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। লুট হওয়া দুই ট্রাক মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এছাড়া ঘটনার পর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এদিকে, রাড্ডা ক্লিনিক দখলের ঘটনাকে বিএনপির চাঁদাবাজির ধারাবাহিকতার অংশ বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ নানা কারণে জনগণ দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয়করণের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বিগত স্বৈরাচারের আমলে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ভেরিফিকেশন ও ভাইবার নামে রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনায় নিয়ে অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকায় অনেক চাকরিপ্রার্থীকে নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগও ছিল।
তার অভিযোগ, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ভাইবার নম্বর ৪০০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বিভিন্ন সংসদ সদস্যও প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন যে লিখিত পরীক্ষায় পাস করলেই হবে, ভাইবার সময় তাদের কাছে প্রবেশপত্র নিয়ে গেলেই চাকরি হয়ে যাবে।
এর আগে, রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।
জানা যায়, মুখোশ পরা ২৫০ জনের বেশি দুর্বৃত্ত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালিয়ে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। পরে তারা ক্লিনিকের মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, ফ্রিজ, এসি, নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালপত্র লুট করে এবং স্থাপনা ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে। এটি এলাকার হাজারো নারী ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।
পড়ুন: লাগামহীন এলপিজির বাজার, ভোক্তার ঘাড়ে বাড়তি বোঝা
আর/


