কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিয়ের প্রলোভনে ৭ম শ্রেনীর স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে রাজিব কুমার ঘোষ (২৫) নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন (৩০বৎসর) সশ্রম কারাদন্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে একলাখ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ৬ (ছয়) মাস সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে তাকে। অর্থ দন্ডের টাকা আদায়পূর্বক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভিকটিমকে প্রদানের জন্য জেলা কালেক্টরকে (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ (শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল) বিচারক এএইচ এম শফিকুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে আসামীর উপস্থিতিতে এই রায় দেন। দন্ডপ্রাপ্ত রাজিব কুমার কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিনের উত্তর কাটদহ গ্রামের বাসিন্দা জয় ঘোষের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ‘আসামী রাজিব দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে স্কুলে যাতায়াতের পথে উত্যেক্ত করতো নানা ভাবে কু-প্রস্তাব দিতো। এতে কিশোরীর দিক থেকে কোন সাড়া না পাওয়ায় যুবক রাজিব মরিয়া হয়ে উঠে। তারই জের ধরে ২০২২ সালের ০২ ডিসেম্বর দুপুরে কিশোরীর বাবা মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে আসামী রাজিব কিশোরীর বাড়িতে যায় এবং তাকে জোরপূর্বক ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এঘটনা যদি কিশোরী কাউকে না বলে তাহলে কিশোরীকে বিয়ে করবে বলে অঙ্গীকার করে আসামী রাজীব। এর পর থেকে কিশোরীর দিনমজুর মা/বাবার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে একাধিকবার ধর্ষন করে আসামী রাজিব। পরে বিয়ের কথা বল্লে আসামী তাতে অস্বীকৃতি জানায়। এঘটনার বিচার চেয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী নিজেই বাদি হয়ে ১১ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে মিরপুর থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে আসামী রাজিবকে এজাহার নামীয় আসামী করে মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে মিরপুর থানার উপসহকারী পুলিশ পরিদর্শক মুরাদুল ইসলাম ২০২২ সালের ৩০ডিসেম্বর ২০০০ (সংশোধনী-৩) সালের ৯(১) ধারায় ধর্ষনের অভিযোগ এনে যুবক রাজিব কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন আদালতে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলি এ্যাড. আব্দুল মজিদ জানান, মিরপুর থানার স্কুল ছাত্রী ধর্ষন অভিযোগে আসামী রাজিব কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বাক্ষ্য শুনানী শেষে সন্দেহাতীত প্রমানিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডসহ একলক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজা খাটার আদেশ দেন আদালত।
পড়ুন:জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ইমি/


