ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ছয় প্রার্থীর সবার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম।
আগামী ২৯ অক্টোবর এ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তফশিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর এবং ৮ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন ২৭ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাঁচটি রাজনৈতিক দলের মোট ছয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তারা হলেন—বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপনির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে কে জয়ী হবেন, তা এখনই বলা কঠিন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে চলতি বছর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
ওই নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল ৯৭ হাজার ৮১৯।
গত ২০ আগস্ট ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম। পরদিন ২১ আগস্ট তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। এর আগে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ২২ আগস্ট আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
এরপর ১০ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফশিল অনুযায়ী ২৭ সেপ্টেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, ঠাকুরগাঁওকে একটি বসবাসযোগ্য, সুন্দর ও শান্তিময় জনপদ হিসেবে গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য। বেকারত্ব দূর করা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করতে চাই। ক্ষমতাসীনের ধারাবাহিকতায় নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন শতভাগ অব্যাহত থাকবে।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। মনোনয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমরা আবেদন করেছিলাম। দল যাকে চূড়ান্ত ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দেবে, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষেই মাঠে কাজ করব।
১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে যেসব উপনির্বাচন ইতোমধ্যে হয়েছে, তার সুখকর কোনো ইতিহাস আমাদের কাছে নেই। তারপরেও এবার আমরা ইনশাআল্লাহ প্রমাণ করব, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। আল্লাহর সাহায্য এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সব জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি নতুন ইতিহাস আমরা তৈরি করব, ইনশাআল্লাহ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ খাদেমুল ইসলাম বলেন, বিরোধী-সরকারি দলগুলো গৃহপালিত দল। দুই দল নির্বাচনের মাঠে থাকায় নির্বাচন নিয়ে আমাদের শঙ্কা রয়েছে। অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নানা ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এমন কোনো কর্মকাণ্ড হলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করবে।
খেলাফত আন্দোলনের আব্দুল আলীম নিজামী বলেন, জেলার মানুষ পরিবর্তন চায়। বিভিন্ন ইউনিয়নে সভা-সমাবেশ করে আমি সাধারণ মানুষের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছি। মানুষ পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। আল্লাহ চাইলে এবার আমার বিজয় সুনিশ্চিত। নির্বাচিত হলে বেকারত্ব দূর করে ঠাকুরগাঁওকে একটি আধুনিক ও উন্নত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব।
বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ঠাকুরগাঁও একটি কৃষিপ্রধান এলাকা হলেও এখানে বিসিক শিল্পনগরী বা কৃষি ইপিজেড নেই। নির্বাচিত হলে বন্ধ বিমানবন্দর চালু এবং শিল্পকারখানা গড়ে তুলে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করব।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করে আমরা ৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছি। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ৬ অক্টোবর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৮ অক্টোবর। আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
ঠাকুরগাঁও সদর, নব গঠিত রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের ৯৮৯টি বুথ বা ভোটকক্ষে ভোট দেবেন এসব ভোটার।
পড়ুন: ২৩ বছর পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী
আর/


