বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

‘যৌতুক দিয়েছি, বাড়ি করে দিয়েছি, এখন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে কোথায় যাব?’

‘আমি একজন কন্যাসন্তানের মা, কারও বোন এবং কোনো পিতার কন্যা। আমি আর নির্যাতন সহ্য করতে পারছি না। আমি বাঁচতে চাই। প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে এখন কোথায় যাব?’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন আকুতি জানিয়েছেন খুলনার লবণচরা থানার উত্তর হরিণটানা ডি আলী স্কুল এলাকার বাসিন্দা ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি তার ব্যাংকার স্বামী, ননদ ও ভাসুরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা এসব অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজের ও প্রতিবন্ধী কন্যাসন্তানের নিরাপত্তা দাবি করেন।

ফাতেমা জানান, ২০২১ সালের ১ অক্টোবর ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী উত্তর হরিণটানা এলাকার হাওলাদার বাড়ির মোতালেবের ছেলে মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। শিশুটি প্রতিবন্ধী বলে জানান তিনি।

লিখিত বক্তব্যে ফাতেমা দাবি করেন, বিয়ের পর তার স্বামী বেকার থাকায় প্রবাসী দুই বোনের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে তাকে জনতা ব্যাংকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেন। পরে স্বামীর নামে থাকা জমির ওপর প্রায় ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেন। এছাড়া নিজের ব্যাংক হিসাবে থাকা ৫ লাখ টাকা স্বামীর নামে এফডিআর করে দেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ফাতেমার অভিযোগ, একপর্যায়ে তার ভাসুর মো. জাহাঙ্গীর আলম তাকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। এতে সাড়া না দেওয়ায় তিনি তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেন। পরে ননদ হাসনা হেনাও এতে সম্পৃক্ত হন বলে অভিযোগ করেন ফাতেমা। তাদের বিরুদ্ধে তাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগও করেন তিনি।

ফাতেমা আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে তার সন্তানকে নিয়েও মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়। পরে স্বামীসহ অভিযুক্তরা তার কাছে যৌতুক দাবি করে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে তিনি আদালতে মামলা করেন বলেও জানান।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মামলায় অভিযুক্তরা জামিনে বেরিয়ে আসার পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে অন্যান্যদের সহযোগিতায় তার স্বামী আলমগীর তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ সময় তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার অনাগত সন্তান নষ্ট হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন ফাতেমা।

তিনি বলেন, নির্যাতনের সময় তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তাকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমা বলেন, ‘আমি স্বামীর সংসার টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। যৌতুকের টাকা দিয়েছি, বাড়ি করে দিয়েছি, স্বামীর চাকরির ব্যবস্থাও করেছি। তারপরও যদি আমাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়, তাহলে আমার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে আমি কোথায় যাব?’

তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিজের ও সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তবে ফাতেমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তার স্বামী মো. আলমগীর হোসেন। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় কাজী অফিসে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।

এ ঘটনায় ফাতেমার করা মামলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের নথিতে কী সিদ্ধান্ত বা অগ্রগতি রয়েছে, তা যাচাই করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ঘাটাইলে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন