এশিয়ান গেমসে হকিতে সপ্তম স্থান অর্জন করে মিশন শেষ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল। স্থান নির্ধারণী ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আসর শেষ করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। জাপানের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখায় বাংলাদেশ।
থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে জয় দিয়ে এশিয়ান গেমসের হকি অভিযান শেষ করতে মাঠে নামে বাংলাদেশ। সপ্তম স্থান নির্ধারণী এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশলে খেলতে দেখা যায় পিটার গেরহার্ডের দলকে। ম্যাচের শুরুতেই গোল আদায় করে নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করে বাংলাদেশ।
ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। রোমান সরকারের গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লাল-সবুজরা। ম্যাচের শুরুতেই পাওয়া এই গোল বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে থাইল্যান্ড। তবে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষককে বড় কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি তারা।
প্রথম কোয়ার্টারে এক গোলের লিড নিয়ে খেলতে থাকে বাংলাদেশ। গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি দলটি। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। থাইল্যান্ডের রক্ষণভাগও নিজেদের সীমানায় বেশির ভাগ সময় ব্যস্ত ছিল।
প্রথম কোয়ার্টারে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানেই এগিয়ে থাকে বাংলাদেশ। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল পিটার গেরহার্ডের দলের হাতে। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে আরও সংগঠিত আক্রমণ শুরু করে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শেষদিকে আসে দ্বিতীয় গোল। ২৭ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন আমিরুল ইসলাম। তার গোলে বাংলাদেশের লিড বেড়ে দাঁড়ায় ২-০। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পাওয়া এই গোল ম্যাচে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্ত করে। দুই গোল পিছিয়ে পড়ে থাইল্যান্ডের জন্য ম্যাচে ফিরে আসার পথ কঠিন হয়ে যায়।
দুই গোলের লিড পাওয়ার পরও বাংলাদেশ রক্ষণাত্মক হয়ে যায়নি। বরং আক্রমণে আরও মনোযোগ দেয় দলটি। থাইল্যান্ড ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের রক্ষণভাগ বেশ দৃঢ়তা দেখায়। মাঝমাঠে বলের দখল ধরে রেখে থাই আক্রমণ ঠেকিয়ে পাল্টা আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যায় বাংলাদেশ।
ম্যাচের শেষ কোয়ার্টারে এসে তৃতীয় গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। ৫৩ মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক পায় লাল-সবুজের দল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন আশরাফুল ইসলাম। তার গোলে বাংলাদেশের জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০।
শেষ দিকে থাইল্যান্ড ব্যবধান কমানোর জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে। কিন্তু বাংলাদেশের রক্ষণভাগ কোনো সুযোগ দেয়নি। গোলরক্ষকসহ রক্ষণভাগের খেলোয়াড়েরা নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করায় শেষ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের জালে আর বল জড়ায়নি। বাংলাদেশও আর গোল করতে পারেনি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ৩-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। এই জয়ের ফলে এশিয়ান গেমসে সপ্তম স্থান নিয়ে হকি অভিযান শেষ করল বাংলাদেশ জাতীয় দল।
থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের তিন গোল এসেছে তিন ভিন্ন সময়ে এবং তিন ভিন্ন পরিস্থিতিতে। ম্যাচের শুরুতেই রোমান সরকারের ফিল্ড গোল দলকে এগিয়ে দেয়। এরপর পেনাল্টি কর্নার থেকে আমিরুল ইসলামের গোল ব্যবধান দ্বিগুণ করে। শেষ দিকে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে আশরাফুল ইসলামের গোল জয়কে নিশ্চিত করে।
এই জয় বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য স্বস্তির হলেও এশিয়ান গেমসে প্রত্যাশিত অবস্থান অর্জন করতে না পারার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে শেষ ম্যাচে দাপুটে জয় নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করাটা দলের জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ ও রক্ষণে ভারসাম্য বজায় রেখেছে বাংলাদেশ।
কোচ পিটার গেরহার্ডের অধীনে বাংলাদেশ দল ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। দ্রুত গোল পাওয়ার পর দলটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। দ্বিতীয় গোলের পর থাইল্যান্ডের ওপর চাপ আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় গোল করে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
হকিতে এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে বাংলাদেশের সামনে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত ভালো ফল করতে হলে আক্রমণভাগের কার্যকারিতা, পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল আদায় এবং রক্ষণভাগের দৃঢ়তা—সব ক্ষেত্রেই আরও উন্নতি প্রয়োজন। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে এই তিনটি দিকেই নিজেদের সামর্থ্যের কিছুটা প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশ।
বিশেষ করে পেনাল্টি কর্নার ও পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে গোল পাওয়াটা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমিরুল ইসলামের গোল বাংলাদেশের লিড বাড়ানোর পাশাপাশি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করে। পরে আশরাফুল ইসলামের পেনাল্টি স্ট্রোকের গোল থাইল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনাও কার্যত শেষ করে দেয়।
অন্যদিকে ম্যাচের শুরুতেই রোমান সরকারের গোল বাংলাদেশের পরিকল্পনাকে সফলভাবে এগিয়ে নেয়। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে গোল পাওয়ায় প্রতিপক্ষকে শুরু থেকেই চাপে রাখা সম্ভব হয়। পুরো ম্যাচে বাংলাদেশ সেই চাপ ধরে রাখে এবং শেষ পর্যন্ত তিন গোলের ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচ শেষে তাই ৩-০ গোলের জয় নিয়ে এশিয়ান গেমসের হকি অভিযান শেষ করেছে বাংলাদেশ। সপ্তম স্থান নিশ্চিত করে দেশে ফিরবে জাতীয় হকি দল। টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচের এই জয় খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।
রোমান সরকার, আমিরুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলামের গোলে পাওয়া জয়টি বাংলাদেশের জন্য এশিয়ান গেমসের শেষ স্মৃতি হয়ে থাকল। শুরুতে রোমানের গোলে এগিয়ে যাওয়া, দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আমিরুলের পেনাল্টি কর্নার থেকে ব্যবধান বাড়ানো এবং শেষ দিকে আশরাফুলের পেনাল্টি স্ট্রোকে জয় নিশ্চিত—এই তিন গোলেই থাইল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
ফলে এশিয়ান গেমসে হকিতে সপ্তম স্থান অর্জন করেই মিশন শেষ হলো বাংলাদেশের। শেষ ম্যাচে গোল হজম না করে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের জন্য স্বস্তির ফল। এখন এই পারফরম্যান্স থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আরও ভালো ফলের লক্ষ্যেই এগোতে হবে বাংলাদেশ হকি দলকে।
পড়ুন:সাদ-সোহেলের নাইটক্লাবের ছবি নিয়ে তোলপাড়
ইমি/


