তৃতীয় কেমো শেষ হলো’, হাসপাতাল থেকে জানালেন সামিয়া আফরিন

ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছেন মডেল ও উপস্থাপিকা সামিয়া আফরিন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই উপস্থাপিকা শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন। হাসপাতালের শয্যা থেকে তোলা একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি জানান, তার তৃতীয় কেমোথেরাপি শেষ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ফেসবুকে দেওয়া ওই পোস্টে সামিয়া আফরিন লেখেন, ‘আমার তৃতীয় কেমো শেষ হলো।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, কেমোথেরাপির পর আগামী কয়েকটি দিন তার জন্য কিছুটা কঠিন হতে পারে। তবে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।

হাসপাতালের শয্যা থেকে দেওয়া বার্তায় সামিয়া লেখেন, ‘আগামী কয়েকটা দিন হয়তো একটু কঠিন যাবে, তবে ইনশাআল্লাহ দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠব।’ নিজের সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে তার শরীরে যেন আর ক্যানসার ফিরে না আসে, সেই প্রার্থনার কথাও জানান।

ক্যানসারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্যেও সামিয়ার এই বার্তায় ইতিবাচক থাকার চেষ্টা স্পষ্ট। চিকিৎসার কঠিন সময়ের মধ্যেও তিনি ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে অক্টোবর মাসকে ক্যানসার সচেতনতার মাস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হওয়ার পরামর্শ দেন।

সামিয়া তার পোস্টে লেখেন, ‘নিজের শরীরের প্রতি সচেতন হোন। অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন অবহেলা করবেন না; সময়মতো স্ক্রিনিং ও নিয়মিত চেক-আপ করুন।’ তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো রোগ শনাক্ত করা গেলে তা চিকিৎসার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

নিজের যত্ন নেওয়া এবং সচেতন থাকাকেই নিজের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা হিসেবে উল্লেখ করেছেন এই উপস্থাপিকা। তার এই বার্তা শুধু নিজের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্বও সামনে এনেছে।

সামিয়ার পোস্ট প্রকাশের পরপরই তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছেন। শোবিজ অঙ্গনের সহকর্মীরাও তার পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া ও ভালোবাসার বার্তা জানিয়েছেন।

মন্তব্যের ঘরে মৌসুমী নাগ, নিপুণ আক্তার, জাকিয়া বারী মম, শাহনাজ খুশী, দীপা খন্দকার, তানভীন সুইটি ও ফাহমিদা নবীসহ অনেকেই সামিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। কেউ তার জন্য দোয়া করেছেন, আবার কেউ কঠিন এই সময়ে মানসিকভাবে শক্ত থাকার বার্তা দিয়েছেন।

সামিয়া আফরিনের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই অবশ্য নতুন নয়। প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিনি এই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। ২০২২ সালের এপ্রিলে তার কোলন ক্যানসার শনাক্ত হয়। রোগ শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান তিনি। সেখানে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরেন।

চিকিৎসার পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পরও ক্যানসারের সঙ্গে তার লড়াই পুরোপুরি শেষ হয়নি। চলতি বছরে তার শরীরে নতুন করে ডিম্বাশয়ের (ওভারিয়ান) ক্যানসার শনাক্ত হয়। এরপর চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে তিনি কেমোথেরাপি নিচ্ছেন।

এরই মধ্যে তার তৃতীয় কেমোথেরাপি শেষ হয়েছে। কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে চুল পড়ে যাওয়ার বিষয়টিও সামিয়াকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি মাথা ন্যাড়া করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময় নিজের ছবি প্রকাশ করে জীবনের এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি।

ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এর সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সামিয়ার ক্ষেত্রেও চুল পড়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তন এসেছে। তবে বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে না দেখে সাহসের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে অন্যদেরও কঠিন পরিস্থিতিতে ইতিবাচক থাকার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন।

দীর্ঘ চিকিৎসার মধ্যেও সামিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলোর একটি হলো—শরীরে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে সেটিকে অবহেলা না করা। সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

বিশেষ করে অক্টোবরকে ক্যানসার সচেতনতার মাস হিসেবে সামনে রেখে তার এই আহ্বান নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। ক্যানসারের মতো জটিল রোগের ক্ষেত্রে সচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি নিজের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছেন।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সামিয়ার সামনে এখন আরও কিছু কঠিন দিন অপেক্ষা করছে। তবে নিজের পোস্টেই তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার প্রত্যয় জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শরীরে যেন আর ক্যানসার বাসা না বাঁধে, সেই প্রার্থনা করেছেন।

সামিয়ার এই লড়াইয়ে তার পাশে রয়েছেন পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী ও অসংখ্য ভক্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া শুভকামনা ও ভালোবাসার বার্তাগুলোও তাকে মানসিকভাবে শক্তি জোগাচ্ছে। দীর্ঘ এই চিকিৎসাযাত্রায় তার সাহস, ইতিবাচক মনোভাব এবং সচেতনতার বার্তা ভক্তদের কাছেও অনুপ্রেরণার হয়ে উঠেছে।

এখন সামিয়ার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রত্যাশা, চিকিৎসায় দ্রুত সাড়া দিয়ে তিনি সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন। তার নিজের ভাষায়, আগামী কয়েকটি দিন কঠিন হলেও সেই কঠিন সময় পেরিয়ে সুস্থতার পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ই এখন তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

পড়ুন:প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয় সংকুচিত, আজ বিশ্ব প্রাণী দিবস

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন