সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে ইয়েমেনের হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দার কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা পবিত্রতম ইসলামি স্থানগুলোর পবিত্রতার ওপর একটি অগ্রহণযোগ্য হামলা।
এ ঘটনায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশটির প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে—এমন যেকোনো আগ্রাসনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতিদের দায়ী করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে হুতিরা এটিকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ভাষ্য, ২৯ সেপ্টেম্বর মদিনার একটি বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। ওই কেন্দ্র থেকেই মসজিদে নববীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। হামলায় একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার অচল হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি।
জোটের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, হামলার পর তদন্ত চালানো হয়। ঘটনাস্থলে পাওয়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করেও হুতিদের পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে তারা।
সৌদি জোটের দাবি, মদিনার বিদ্যুৎ বিতরণকেন্দ্রে হামলা মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববী—এই দুই পবিত্র স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হুতিদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। মুসলিম বিশ্বের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করাও এর উদ্দেশ্য বলে দাবি করেছে জোটটি।
পবিত্র স্থান এবং সেখানে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
তবে সৌদি জোটের এই বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা। হুতি-নিয়ন্ত্রিত সাবা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে গোষ্ঠীটির সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা অভিযোগটি অস্বীকার করেন। তিনি সৌদি জোটের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন।
ওই কর্মকর্তার অভিযোগ, মক্কায় হুতিদের হামলার আগের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে না পারার বিষয়টি আড়াল করতেই সৌদি আরব নতুন এই দাবি তুলেছে।
পড়ুন: শিশুর জন্য আনন্দময় হয়নি ‘আনন্দ স্কুল’, উঠে এসেছে আর্থিক অনিয়ম
আর/


