যানজট নিরসনে ছ্রোট শহরে ৫শত কোটি টাকায় ৫ উড়াল সেতু

রাজশাহীতে রেলক্রসিং ও যানজট নিরসনে এবং আধািনক শহর নির্মাণে উড়াল সেতু যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন মহল ও গবেষসকরা বলছেন ছ্রোট শহরে আধুনিক ট্রাফিক সিঙ্গনাল বাস্তবায়নে যানজট নিরসন সম্বভ ছিল।

বিজ্ঞাপন

শত শত কোটি ব্যায়ে নির্মাণধীন ৫ উড়াল সেতু। শুধুমাত্র উড়াল সেতু ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৪০ কোটি টাকার বেশি। পুরো সমন্বিত প্রকল্পের আওতায় সামগ্রীকভাবে প্রায় ০৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ রয়েছে।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের’ বিশাল বাজেটের একটি অংশজুড়ে রয়েছে এই উড়াল সেতুগুলো।

রাজশাহী শহরে ফ্লাইওভার এবং ওভারপাস প্রকল্পসমূহ রাজশাহী নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিং ও যানজটপ্রবণ সংযোগস্থলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করতে সমন্বিত ফ্লাইওভার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

গ্রীন এন্ড ক্লিন সিটি পরিচিত থাকলেও উড়াল সেতুর শহরে পরিচিতি পাবে রাজশাহী। রাজশাহী নগরীর যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) একাধিক ফ্লাইওভার (উড়াাল সেতু) ও ওভারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে।

রাজশাহীতে প্রথম উড়াল সেতু বা রেলওয়ে ওভারপাসের (বুধপাড়া রেলওয়ে ওভারপাস) নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। পরবর্তীতে ‘রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় আরও কয়েকটি নতুন উড়াল সেতু বা ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালের শেষ দিকে (আনুষ্ঠানিক পাইলিং ও কাজ শুরু হয় পরবর্তী সময়ে) শুরু হয়।

রাজশাহী মহানগরীতে বর্তমানে বিভিন্ন রেলক্রসিং ও যানজটপূর্ণ পয়েন্টে মোট ৫টি উড়াল সেতু বা ফ্লাইওভার নির্মাণ ও বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে বুধপাড়ার প্রথম উড়াল সেতুটির কাজ পূর্বেই এগিয়েছে এবং বর্তমানে বন্ধগেট, নতুন বিলসিমলা, হড়গ্রামসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একাধিক ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

বুধপাড়াা ফ্লাইওভার (ইতিপূর্বে নির্মিত ও চালু) অবস্থান: বুধপাড়া রেলক্রসিং (পূর্ব-পশ্চিম ৬.৭৯৩ কিলোমিটার চার লেন সংযোগ সড়ক)। দৈর্ঘ্য ২০২.৫ মিটার (সাথে ১২০ মিটার র‌্যাম্প)। ব্যয় প্রায় ২৯.২৮ কোটি টাকা।

রায় পাড়া রেলক্রসিং ফ্লাইওভার অবস্থান: রায়পাড়া রেল ক্রসিং – (সিটি বাইপাস সড়ক)। ব্যয় আনুমানিক ৮৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

বন্ধ গেট ফ্লাইওভার অবস্থান: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন বন্ধ গেট এলাকা। গোরহাঙ্গা রেলক্রসিং (পার্ট-এ) ফ্লাইওভার অবস্থান: গোরহাঙ্গা রেলগেট থেকে নিউ মার্কেট মুখী।

হাজরাপুকুর রেলক্রসিং ফ্লাইওভার অবস্থান: হাজরাপুকুর-মালদা কলোনি সংলগ্ন সড়ক। বর্তমান অবস্থা ও পর্যবেক্ষণ নকশা সংক্রান্ত আলোচনা: ফ্লাইওভারগুলোর ল্যান্ডিং বা নামার অংশে দুই পাশের বিদ্যমান সড়ক সংকুচিত হওয়া নিয়ে স্থানীয় পর্যায় ও নগর প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে আলোচনা চলছে, যেন চালু হওয়ার পর প্রবেশমুখে নতুন করে যানজট তৈরি না হয়।

কাজের অগ্রগতি: কামারুজ্জামান চত্বর, বন্ধ গেট ও রায়পাড়া অংশের অবকাঠামোগত কাজ চলমান রয়েছে। নকশা ও জমি সংক্রান্ত বিষয় গুলোর সুরাহা সাপেক্ষে প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত সমাপ্ত করার নির্দেশনাক্রমিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রাজশাহী মহানগরীতে যানজট নিরসন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে বেশ কিছু ফ্লাইওভার ও ওভারপাস নির্মাণ কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ফ্লাইওভার নির্মাণের ফলে নগরবাসী দীর্ঘমেয়াদে বেশ কিছু ইতিবাচক সুবিধা যেমন পাবেন, তেমনি প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি ও নকশাগত জটিলতার কারণে বেশ কিছু নেতিবাচক প্রভাব বা অসুবিধাও তৈরি হচ্ছে।

সম্ভাব্য সুবিধা (দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব) রেলক্রসিং সংক্রান্ত জট নিরসন: রাজশাহীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যেমন—বন্ধগেট, হড়গ্রাম, বিলশিমলা ও স্টেশন রেলগেট সংলগ্ন ইন্টারসেকশনে ঘনঘন ট্রেন চলাচলের কারণে ব্যারিয়ার পড়ার পর দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। ওভারপাস এবং ফ্লাইওভার চালু হলে এই যানজট সম্পূর্ণ দূর হবে।

সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়: শহরের বাইপাস ও সংযোগ সড়কগুলোতে যানবাহন বাধাহীনভাবে চলাচলের সুবিধা পাবে, ফলে যাতায়াতের সময় এবং গাড়ির জ্বালানি খরচ দুটোই কমবে।

নগর সংযোগ ও আন্তঃজেলা যাতায়াত সহজীকরণ: চাপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ বা বাইপাসের দিকের যানবাহনগুলো শহরের মূল বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক এলাকায় প্রবেশ না করেই দ্রুত যাতায়াত করতে পারবে।

সম্ভাব্য অসুবিধা ও চ্যালেঞ্জ (স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী) দীর্ঘমেয়াদী নির্মাণ ভোগান্তি: নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় সড়ক বন্ধ রাখা, বিকল্প পথে অতিরিক্ত ৩-৪ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত এবং ধুলাবালি ও খানাখন্দের কারণে সাধারণ পথচারী ও চালকদের সীমাহীন ভোগান্তি হচ্ছে।

সংকুচিত নিচ সড়ক ও অবতরণ স্থানের যানজট ফ্লাইওভারের পিলারের জায়গা নিতে গিয়ে নিচের সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে। অভিজ্ঞদের মতে, ফ্লাইওভার থেকে গাড়ি নামার স্থানগুলোতে (যেমন: নিউ মার্কেট বা অলকার মোড় সংলগ্ন এলাকা) প্রোপার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট না থাকলে সেখানে নতুন করে জট সৃষ্টি হতে পারে।

স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি: দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা খুঁড়ে রাখা ও ডাইভারশনের কারণে ফ্লাইওভার সংলগ্ন সড়কের দুই পাশের ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শোরুমগুলোর বেচাকেনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

পরিবেশ ও নান্দনিক ক্ষতি: খোলা বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া এবং নগরীর পরিচিত উন্মুক্ত সৌন্দর্য বা প্রশান্ত পরিবেশ সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হওয়া।

প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিভিন্ন পেশার মানুষ ও অর্থনীতি গবেষকদের বিশ্লেষনে জানা যায়, রাজশাহী মূলত একটি ছিমছাম ও পরিচ্ছন্ন নগরী হওয়ায় ঢাকাসুলভ দীর্ঘস্থায়ী যানজট এখানে কম। ফলে বিশাল বাজেটের অবকাঠামো না করে আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও বিকল্প সড়ক সম্প্রসারণ করা যেত কিন্ত এমন তর্ক স্থানীয় সচেতন মহলে রয়েছে। তবে অন্য মহল বলছেন, ভবিষ্যৎ ট্রাফিকের প্রস্তুতীতে কাজে আসবে উড়াল সেতু। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় যানবাহন ও জনসংখ্যার হার দ্রুত বাড়ছে। যার ফলে আগামী ৫ থেকে ১০ বছর পরের ট্রাফিক চাপ সামলানো সহজ হবে। তবে উড়াল সেতু ব্যবহারে করের বোঝা চেপে বসবে নগর বাসীর উপরে।

রাজশাহী সিনি কর্পোরেশন প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন জানান, গত ৩বছর যাবত উড়াল সেতুর নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। যার কারনে সিটির ভেতরে ও বাহিরের যোগাযোগের কিছুটা বিগ্ন ঘটছে। তিনি প্রশাসকের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রবল চেষ্ঠা অব্যহত রেখেছেন। আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে চলমান ৪ উড়াল সেতুর নির্মাণ কাজ। নগর বাসীর সাময়িক চলাফেরায় কষ্টের কারনে তিনি ধর্য্য ধারন করতে বলেছেন। বন্ধগেট রেলক্রসিং, নতুন বিলসিমলা, হড়গ্রাম নতুন সিটি বাইপাস, গোরগাঙ্গা (পার্ট-এ এবং বি) রেলক্রসিং উড়াল সেতু আসন্ন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।

পড়ুন:‘বাড়িতে গেলে মেরে ফেলার হুমকি’, পটিয়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন