কোটি টাকার চেক বাউন্স বা ডিজঅনার মামলায় বলিউড অভিনেতা ও কৌতুকাভিনেতা রাজপাল যাদবকে কড়া ভর্ৎসনা করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনাদারদের বকেয়া অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় অভিনেতার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত মন্তব্য করেছেন, ‘জেলই আপনার যোগ্য জায়গা।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট রাজপাল যাদবকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে বকেয়া ৫ কোটি রুপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও পুরো অর্থ পরিশোধ করতে পারেননি এই অভিনেতা। ফলে পরবর্তী শুনানিতে আদালতের তীব্র অসন্তোষের মুখে পড়েন তিনি।
মামলাটির শুনানি হয় বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে। শুনানির সময় রাজপাল যাদবের আইনজীবী আদালতে ৫০ লাখ রুপির একটি ডিমান্ড ড্রাফট উপস্থাপন করেন। আইনজীবীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই অর্থ ব্যাংকে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো অর্থ জমা না পড়ায় এতে সন্তুষ্ট হয়নি বেঞ্চ।
আদালত মনে করে, রাজপাল যাদব এর আগে যে অঙ্গীকার করেছিলেন, তা যথাযথভাবে পালন করেননি। ফলে শুধু আংশিক অর্থ জমা দেওয়ার উদ্যোগকে যথেষ্ট হিসেবে বিবেচনা করেনি সর্বোচ্চ আদালত। শুনানির একপর্যায়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী অভিনেতার আচরণ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বিচারপতি বাগচী বলেন, পাওনাদাররা রাজপাল যাদবের চেয়েও ধনী হতে পারেন। কিন্তু অভিনেতা যেভাবে তাদের সঙ্গে করা চুক্তি ভঙ্গ করেছেন, তাতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার আচরণের সমালোচনা করে বিচারপতি আরও বলেন, কখন মুখ খুলতে হয়, সেটিও তার জানা উচিত। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, জেলই রাজপাল যাদবের জন্য সঠিক জায়গা।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরের শুনানিতেও সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ রাজপাল যাদব আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করছেন না বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। তখন তাকে বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমার মধ্যেও পুরো অর্থ জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবার আরও কঠোর অবস্থান নেয় আদালত।
মামলাটির সূত্রপাত প্রায় দেড় দশক আগে। ২০১০ সালে ‘আতা পাতা লাপাতা’ সিনেমা নির্মাণের জন্য দিল্লিভিত্তিক ‘মুরালি প্রজেক্টস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিলেন রাজপাল যাদব। সিনেমাটি নির্মাণের পর বাণিজ্যিকভাবে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ফলে সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি অভিনেতা।
ঋণ পরিশোধ না হওয়ায় পরবর্তীতে পাওনাদার প্রতিষ্ঠানটি আইনের আশ্রয় নেয়। একপর্যায়ে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর রাজপাল যাদবকে বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে পুরো অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় মামলাটি আবারও আলোচনায় এসেছে। সর্বশেষ শুনানিতে ৫০ লাখ রুপির ডিমান্ড ড্রাফট জমা দেওয়ার চেষ্টা করলেও আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, পূর্বে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
রাজপাল যাদব বলিউডে দীর্ঘদিন ধরে কৌতুকাভিনেতা ও পার্শ্বচরিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে পরিচিত। বিভিন্ন হিন্দি সিনেমায় তার অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের এই আইনি বিরোধ তার ব্যক্তিজীবন ও পেশাগত জীবনে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে।
সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ শুনানিতে আদালতের কঠোর মন্তব্যের পর এখন রাজপাল যাদবের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা। নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে মামলায় তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এদিকে মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমের দিকেও নজর রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজপাল যাদব কীভাবে বকেয়া অর্থ পরিশোধ করেন এবং মামলাটির ভবিষ্যৎ কী দাঁড়ায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে সর্বশেষ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের কঠোর অবস্থান থেকে স্পষ্ট, আদালতের নির্দেশ ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আর কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় বেঞ্চ।
পড়ুন:একসঙ্গে ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএমসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ
ইমি/


