আগ্রাবাদ ভূমি অফিস :এক কক্ষেই কর্মকর্তা, নথি ও নাগরিক সেবা

একদিকে প্রতিবছর প্রায় ১২ কোটি টাকা ভূমি উন্নয়ন কর সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই রাজস্ব আদায়ের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়টি পড়ে আছে জরাজীর্ণ অবস্থায়।
টিনের ছাউনিতে মরিচা, ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের সংকট—এভাবেই বছরের পর বছর চলছে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ আগ্রাবাদ ভূমি অফিসের কার্যক্রম।

বিজ্ঞাপন

নগরের মাদারবাড়ী মৌজায় আগ্রাবাদ ভূমি অফিসটি একটি পুরোনো সেমিপাকা স্থাপনা। কাঠের কাঠামোর ওপর টিনের ছাউনিযুক্ত ভবনটির আয়তন মাত্র ৭৮২ বর্গফুট।

দীর্ঘদিনের পুরোনো টিনের ছাউনির বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র হওয়ায় বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ে। ফলে শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্ভোগই নয়, ঝুঁকিতে পড়ে ভূমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার, নথিপত্র ও সরকারি কাগজপত্র।

নাগরিকের জমি-জমা ও ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণের জায়গাটিই এখন নিজেই নিরাপত্তাহীন।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র একটি কক্ষেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসার ব্যবস্থা। সেই একই জায়গায় রাখতে হয় গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার ও নথিপত্র। আবার ভূমিসেবা নিতে আসা নাগরিকদের জন্যও পর্যাপ্ত জায়গা নেই।
ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবাকেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মপরিবেশ যেমন অস্বস্তিকর, তেমনি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের জন্যও তৈরি হচ্ছে ভোগান্তি।
অন্যদিক অফিসটির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে রয়েছে ভিপি সম্পত্তির পুরোনো ভবন। ফলে ওই দুই দিক থেকে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ নেই।

পূর্ব ও উত্তর পাশে রাস্তা ও খালি জায়গা থাকলেও অফিস চলাকালে নিরাপত্তাজনিত কারণে জানালা খোলার সুযোগ নেই বলে জানালেন এখানে কর্মরতরা।
আগ্রাবাদ বেপারিপাড়া থেকে আগত আহমেদ জসিম জানান, এক যুগ আগে এসেছিলেন এই ভূমি অফিসে। কোন পরিবর্তন হয়নি জানিয়ে তিনি নাগরিককে জানান, গুরুত্বপূর্ণ নথির কারনে এই অফিসটি সংস্কার জরুরি।

একই অভিমত সিডিএ আবাসিক এলাকা থেকে আগত ইমরান হোসেন। বলেন, যে কার্যালয় রাষ্ট্রের জন্য প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব সংগ্রহে ভূমিকা রাখছে, সেই কার্যালয়ের করুন দশা অবাক করার মত।

সূত্র বলছে, এই ভূমি অফিস থেকে বছরে প্রায় ১২ কোটি টাকা সম্মিলিত ভূমি উন্নয়ন কর সরকারি খাতে জমা দেওয়া হয়। রাজস্ব আদায় হচ্ছে, নাগরিক সেবা চলছে, কিন্তু সেই সেবার অবকাঠামো কেন এতটা জরাজীর্ণ, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ভূমি অফিসের রেজিস্টার ও নথি শুধু কাগজ নয়; এগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জমির মালিকানা, কর, দখল ও ভূমি-সংক্রান্ত অধিকার। তাই বৃষ্টির পানিতে কিংবা কোন দূর্ঘটনায় এসব নথি নষ্ট হলে এর প্রভাব শুধু একটি অফিসের দৈনন্দিন কাজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, ভোগান্তিতে পড়তে পারেন সাধারণ নাগরিকও। এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

পড়ুন:বিজেপিতে যোগ দিলেন কোয়েল মল্লিক

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন