গাইবান্ধার ফুলছড়ি পিআইও দপ্তরের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর বিধান কঠোরভাবে লঙ্ঘন করে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য গোপন রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত আইনি সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জিআর, টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দ ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য সরবরাহ করা হয়নি।নাগরিক টেলিভিশন ও ​দৈনিক আমার সংবাদের গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি মো. তৌহিদুর রহমান তুহিন তথ্য অধিকার (তথ্য প্রাপ্তি সংক্রান্ত) বিধিমালা, ২০০৯-এর নির্ধারিত ফরমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার এই দীর্ঘসূত্রতা ও তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় অনীহা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
​
​তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদন প্রাপ্তির তারিখ থেকে অনধিক ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য। একাধিক তথ্য প্রদান ইউনিটের সংশ্লিষ্টতা থাকলে সর্বোচ্চ ৩০ কার্যদিবসের বিধান রয়েছে। এছাড়া আইনটির ৯(৩) ধারা অনুযায়ী, তথ্য প্রদানে ব্যর্থতা বা অপারগতার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কারণ দর্শিয়ে অনধিক ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীকে লিখিতভাবে অবহিত করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
​তবে অভিযোগ উঠেছে, ফুলছড়ি পিআইও কার্যালয় থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সরবরাহ তো দূরের কথা, আইনের বিধান অনুযায়ী কোনো লিখিত কারণ বা জবাবও দেওয়া হয়নি।
​
​জনগণের করের টাকায় পরিচালিত গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও ত্রাণমূলক প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এই তথ্যগুলো চাওয়া হয়েছিল। আবেদনকারী মো. তৌহিদুর রহমান তুহিন জানান, এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুস্তাফিজুর রহমানকে একাধিকবার অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি; বরং ‘দেখছি’ বলে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। পিআইও কার্যালয়ের এমন আচরণ তথ্য অধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সরকারি কাজে অস্বচ্ছতার শামিল।

বিজ্ঞাপন

​আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে তথ্য না পাওয়ায় সংক্ষুব্ধ নাগরিক হিসেবে আবেদনকারী এখন পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপের পথে হাঁটছেন। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর বিধান মোতাবেক প্রথম আপিল কর্তৃপক্ষ এবং পরবর্তীতে তথ্য কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

​সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি অনুদান ও ত্রাণ বিতরণের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য প্রদানে এই অনীহা শুধু আইনকেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে না, বরং স্থানীয় প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরের দুর্নীতি ও অনিয়ম ঢাকবার অপচেষ্টাকেই স্পষ্ট করে তুলছে। দ্রুত এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

পড়ুন : বাদ পড়া ৩৫ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন