নিজের লোক দিয়েই কি শুরু হচ্ছে শুদ্ধি অভিযান? ক্ষমতার চেয়ার অনেককে বদলে দেয়। কিন্তু কখনো কখনো চেয়ার ধরে রাখতেই বদলাতে হয় নিজের চারপাশের মানুষ। সাত মাসের সরকার। সামনে দীর্ঘ পথ। অথচ এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেন হাতে নিয়েছেন তিনটি আলাদা খাতা।
একটিতে দল। একটিতে সরকার। আরেকটিতে প্রশাসন। তিন খাতার হিসাব আলাদা। কিন্তু লাল কালির দাগ যেন এক জায়গাতেই, বিতর্ক, ব্যর্থতা আর জবাবদিহির ঘাটতি।
প্রথম অধ্যায়—দল
ক্ষমতায় গেলে দলের ছায়া বড় হয়। আর সেই ছায়ার নিচেই কখনো জন্ম নেয় দখল, চাঁদাবাজি, প্রভাব বিস্তার আর পদ-পদবির অহংকার। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সামনে আসতেই কঠোর বার্তা দিয়েছেন তারেক রহমান। বিতর্কিত নেতাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তথ্য সংগ্রহ, সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে ছাড় না দেওয়ার কথা দলীয় সূত্রে আসছে।
দ্বিতীয় অধ্যায়—সরকার
প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় খাতা মন্ত্রিসভা। এখানে পরিচয়ের চেয়ে বড় হয়ে উঠছে পারফরম্যান্স -এমন ইঙ্গিত আগেই মিলেছে। আগস্টে প্রথম মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাসের পেছনে মন্ত্রীদের কাজের গতি, সমন্বয় এবং সরকারের কার্যক্রম দ্রুত করার বিষয়টি বিবেচনায় ছিল বলে সরকারি সূত্রের বরাতে খবর প্রকাশিত হয়।
ফাইল কত দ্রুত নড়ছে, সিদ্ধান্ত কতটা কাজে লাগছে, আর একজন মন্ত্রীর কারণে সরকারের ভাবমূর্তি উঠছে নাকি নামছে -সেই অঙ্কও আছে। রাজনীতিতে চেয়ার পাওয়া কঠিন। কিন্তু তার চেয়েও কঠিন হয়তো এখন চেয়ার বাঁচানো। কারণ সরকারের ভালো কাজ দশটি হলেও, একটি বিতর্কিত ঘটনা কখনো কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঐ দশটি ভালো কাজের ওপরই কালো পর্দা টেনে দেয়।
তৃতীয় অধ্যায়—প্রশাসন
সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় সম্ভবত এটি। সরকার আসে, সরকার যায় -প্রশাসন থেকে যায়। আর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুদিন ধরেই অভিযোগ, প্রশাসনের একটি অংশ কখনো সরকারের প্রতি নয়, ব্যক্তি কিংবা দলের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য দেখায়। তারেক রহমানের সামনে তাই তৃতীয় পরীক্ষা -আনুগত্যের প্রশাসনকে জবাবদিহির প্রশাসনে রূপ দেওয়া।
কে কার ঘনিষ্ঠ -এই প্রশ্নের চেয়ে বড় করতে হবে, কে দায়িত্ব পালন করছে। কোন কর্মকর্তা কার আমলে পদ পেয়েছেন, সেটি নয় -তিনি আজ রাষ্ট্রের আইন মেনে কাজ করছেন কি না, সেটিই হতে হবে মাপকাঠি। কারণ প্রশাসন যদি দল দেখে সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সরকার বদলায় -কিন্তু সংস্কৃতি বদলায় না।
প্রথমটিতে শৃঙ্খলা। দ্বিতীয়টিতে পারফরম্যান্স। তৃতীয়টিতে জবাবদিহি। তারেক রহমানের জন্য এই অভিযান যতটা রাজনৈতিক, তার চেয়েও বেশি নিজের ঘর সামলানোর পরীক্ষা। কারণ বিরোধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া সহজ। কঠিন হলো নিজের লোকের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া।
আর ইতিহাসও শেষ পর্যন্ত নেতাকে সম্ভবত একটি প্রশ্নেই মাপে -প্রতিপক্ষকে কতটা নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন, সেটি নয়- ক্ষমতায় এসে নিজের পক্ষের অন্যায়কে কতটা থামাতে পেরেছিলেন সেটাই আগে।
প্রধানমন্ত্রী শুরু করেছেন। সরকারের ঘর থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরুর আওয়াজও মিলছে। ইতিমধ্যে কিছু কিছু সিদ্ধান্ত দৃশ্যমান। এখন দেখার বিষয় -নিজের লোক দিয়ে শুরু হওয়া এই কঠোরতা কি সাময়িক বার্তা, নাকি সত্যিই বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্ষমতার পুরোনো ব্যাকরণ?
পড়ুন : নিষিদ্ধ রয়েছে আ.লীগের কার্যক্রম, তবে খুলে যাচ্ছে নির্বাচনের দরজা?
দেখুন : https://www.youtube.com/watch?v=-iWHHqogthA


