সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েও প্রশাসনের কৃতী শিক্ষার্থীদের তালিকায় স্থান পায়নি সুমাইয়া

নাটোরের গুরুদাসপুরে এসএসসি পরীক্ষার্থী সুমাইয়া জাহান সর্বোচ্চ নম্বর (১১৭৩) পেয়েও প্রশাসনের কৃতী শিক্ষার্থীদের তালিকায় স্থান পায়নি। অথচ তার চেয়ে কম নম্বর পাওয়া আট শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনার জন্য ডাকা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে তৎক্ষণাৎ সুমাইয়া জাহানের আপত্তির মুখে স্থগিত করা হয় ক্রেস্ট বিতরণ। ঘটনাটি ঘটে আজ বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নাটোরের জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার। সুমাইয়া গুরুদাসপুর সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী। ২০২৬ সালে এসএসসির ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে উপজেলার সেরা শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়।

জানা যায়, সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য নম্বর ভিত্তিতে ৮ কৃতী শিক্ষার্থীর তালিকা করে উপজেলা প্রশাসন। সেই তালিকা ধরেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান চলাকালে হাজির হন সুমাইয়া জাহান। একপর্যায়ে তাঁকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেয় আয়োজক কমিটি। তখন সুমাইয়া জাহান তার বক্তব্যে বলে, এ তালিকায় শুধু সে একাই বঞ্চিত হয়নি। তার প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে আরও ৫ শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে সুমাইয়া আরও বলে, গুরুদাসপুর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের কারও নাম তালিকায় রাখা হয়নি। আমন্ত্রণ জানানো হয়নি প্রধান শিক্ষককে। এটা তার কাছে কষ্ট ও দুঃখের।

সুমাইয়ার বক্তব্যের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, তার নাম তালিকায় আসা দরকার ছিল। ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে জানানো দরকার ছিল। মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও আমাকে জানাতে পারতেন।

ইউএনও আরও বলেন, বারবার নম্বর যোগ করে সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের তালিকা করা হয়েছে। কিন্তু সুমাইয়ার মার্কশিট, নম্বর ও আবেদন কোনোটাই আমার কাছে আসেনি। এখন জানতে পেরেছি সুমাইয়াই প্রথম হবে এবং সম্মাননা ও ক্রেস্ট তাকে প্রদান করা হবে। এ কারণে সংবর্ধনার সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণ স্থগিত করা হচ্ছে।

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম আকতার বলেন, সুমাইয়ার স্কুলের প্রধান শিক্ষককে তাগিদ দেওয়া হলেও সময়মতো শিক্ষার্থীদের মার্কশিট, ছবি ও আবেদন সরবরাহ করেননি। এ কারণে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তালিকায় স্থান পায়নি। অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে এ-সংক্রান্ত কোনো তালিকা চেয়ে তাঁকে অবগত করা হয়নি।

জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, এত সুন্দর আয়োজনের পেছনে রয়েছে শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতা, এগুলোর মূল্য দিতে হবে। এগুলো এমনভাবে না করি যে তাদের (শিক্ষার্থী) মন খারাপ হয়। এগুলো আমাদের শিখতে হবে। আমরা কেউ ভুলের ঊর্ধ্বে না, ভুল হতে পারে, কিন্তু দেখতে হবে সৎ ইচ্ছা ছিল কি না। তবে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীর নাম তালিকায় না থাকায় তিনি বিব্রত বলে মন্তব্য করেন জেলা প্রশাসক।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : শকুনি লেক বাঁচাতে এক টেবিলে সাংবাদিক-সুধী সমাজ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন