একসময় মাদারীপুর শহরের সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক ছিল শকুনি লেক। বিকেল নামলেই লেকপাড়ে জমত মানুষের আড্ডা, দূর-দূরান্ত থেকে আসত দর্শনার্থী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে নানা অব্যবস্থাপনা, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্য এবং অবৈধ স্থাপনার কারণে হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী এ লেকের নান্দনিকতা। এবার সেই সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য রক্ষায় একত্র হয়েছেন সাংবাদিক, সুধী সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা।
শকুনি লেকের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় শকুনি লেকের বর্তমান অবস্থা, পরিবেশ দূষণ, ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা এবং লেকপাড়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। একই সঙ্গে লেকের জায়গা দখল কিংবা অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠার সুযোগ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপস্থিতরা।
বক্তারা বলেন, শকুনি লেক শুধু একটি জলাশয় নয় এটি মাদারীপুরের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও নাগরিক জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এই ঐতিহ্য রক্ষা করা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়; লেকপাড়ের ব্যবসায়ী, স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থীসহ প্রত্যেক নাগরিকেরও দায়িত্ব রয়েছে।লেকের ভেতরে কিংবা পাড়ে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি লেকপাড়ের সৌন্দর্য নষ্ট করে এমন স্থাপনা ও কর্মকাণ্ড চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা বলেন, শুধু আলোচনা করলেই হবে না; শকুনি লেককে রক্ষায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, সাইনবোর্ডের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি এবং লেকের পরিবেশ নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে লেকের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সবাই ঐতিহ্যবাহী শকুনি লেককে রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
পড়ুন : জয়পুরহাটে ১ম ফ্রেন্ডশিপ ও অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প শুরু


