এশিয়া কাপ ও এশিয়ান গেমসের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেও নিজের সেরাটা দিতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ডেভিড হ্যাম্পের অধীন প্রথম ম্যাচে অজিদের কাছে ৭ উইকেটে হেরে বাংলাদেশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.৪ ওভারে মাত্র ১৬৬ রানেই গুটিয়ে গেছে টাইগ্রেসরা। জবাব দিতে নেমে ফোবি লিচফিল্ডের ৭৭ রানের ঝড়ো ইনিংসে ১৪৬ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিয়েছে ৭ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এদিন আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ছন্নছাড়া ছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই বিদায় নেন ওপেনার ফারজানা হক। মেগান শুটের বলে ফোবে লিচফিল্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
একই বোলারের শিকারে পরিণত হয়ে ৭ বল খেলে মাত্র ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার শারমিন সুলতানা। দুই ওপেনারের দ্রুত বিদায়ে শুরুতেই যেন আরেকটি ব্যাটিং ব্যর্থতার আভাস মিলছিল।
তবে তৃতীয় উইকেটে শারমিন আক্তার ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার খানিক চেষ্টা চালান। ক্যাচ আউট হওয়ার আগে ২৬ বলে ২৪ রান আসে শারমিনের ব্যাট থেকে। এরপর চতুর্থ উইকেটে জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারি জুটির মন্থর ব্যাটিংয়ে উইকেটের পতন ঠেকানো গেলেও স্কোরবোর্ডে রান বাড়েনি তেমন।
১৭ বলে মাত্র ২ রান করে সাদারল্যান্ডের দ্বিতীয় শিকার হন সোবহানা। টেস্ট মেজাজে ব্যাটিংয়ে ৮৬ বল খরচায় ২৯ রান করেন জ্যোতি। ২৭.৬ ওভারে অ্যাশলি গার্ডনারের বলে বেথ মুনির হাতে ক্যাচ দিয়ে তাকে ফিরতে হয়। তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৮৩ রান।
নিগারের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন স্বর্ণা আক্তার। রিতু মনির সঙ্গে জুটি বেঁধে তারা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুই ব্যাটার যোগ করেন ২০ রান। ৫০ বলে ১টি চারে ২১ রান করে জর্জিয়া ওয়ারহ্যামের বলে এলবিডব্লিউ হন স্বর্ণা।
শেষ দিকে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা চালান রিতু মনি। তার ব্যাটে ভর করেই দলীয় দেড়শো রানের গণ্ডি পেরোয় বাংলাদেশ। ৬৩ বলের ইনিংসে ৫টি চারের মারে সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন তিনি। এতে ১৬৬ রানের লড়াকু পুঁজি পায় জ্যোতিরা।
১৬৭ রানের ছোট লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আক্রমণাত্মক সূচনা করেন দুই অজি ওপেনার জর্জিয়া ভোল ও লিচফিল্ড। শুরু থেকেই দারুণ বল করতে থাকেন অভিষিক্ত হাবিবা ইসলাম। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে এসে সেই পুরষ্কার পান তিনি। তার দারুণ একটি বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগ অঞ্চলে শারমিন আক্তার সুপ্তার হাতে ক্যাচ দেন ভোল।
ভোল আউট হবার পর ঝড় তোলেন লিচফিল্ড। এলিসা পেরিকে সাথে নিয়ে ৮৯ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন লিচফিল্ড। মাত্র ৩৪ বল খেলেই তিনি তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির থাকা এই ব্যাটারকে থামান রাবেয়া খান। রাবেয়াকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে শর্ট কাভার অঞ্চলে রিতু মনির ক্যাচে পরিণত হন লিচফিল্ড। ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৭ বলে ১ ছক্কা ও ১০ চারে ৭৭ রান করেন তিনি।
লিচফিল্ড আউট হবার পর বাকি পথটা সহজেই পার করে দেন পেরি। শেষ দিকে হাবিবা বেথ মানির উইকেট তুলে নিলেই সহজ জয় নিশ্চিত করে অজিরা। ১৪৬ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয়ে সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
পড়ুন : শুক্রবার শুরু বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্ট, যেভাবে দেখা যাবে


