ভোলায় বজ্রপাতে দুই মহিষের মৃত্যু, নিরাপদে রাখতে আধুনিক কেল্লা নির্মাণের দাবি

ভোলার দৌলতখান উপজেলার চর মদন এলাকায় বজ্রপাতে দুটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল দুপরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মহিষের মালিক হাজী আবদুল মান্নান। এ ঘটনায় চরাঞ্চলে মহিষ ও রাখালদের নিরাপত্তায় আধুনিক কেল্লা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে জীবিকার অন্যতম মাধ্যম মহিষ ও গরু পালন। জেলার প্রায় বিছিন্ন ৮৫টি চরে মহিষ ও গরু পালন করা হয়। তবে এসব চরে মহিষ ও গরু রাখার নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। ফলে ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায়ই মহিষ মারা যায় বা হারিয়ে যায়। এর পাশাপাশি চুরির কারণেও ক্ষতির মুখে পড়তে হয় খামারিদের।

খামারিদের দাবি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও চুরির ঝুঁকি থাকলেও মহিষের নিরাপত্তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের আর্থিক সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ফলে একদিকে জীবিকা হারানোর আশঙ্কা, অন্যদিকে লোকসানের বোঝা নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের।

ভোলার মহিষ পালন শুধু স্থানীয় মানুষের জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জেলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যও। প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘ভোলার মহিষের দুধের কাঁচা দই’ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃত পণ্য। এই দই উৎপাদনের অন্যতম ভিত্তি স্থানীয় মহিষ পালন। খামারিরা আর্থিক ও নিরাপত্তাসংকটে পড়লে ঐতিহ্যবাহী এ পণ্যের উৎপাদনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে বজ্রপাতে মারা যাওয়া মহিষ দুটির মালিক হাজী আবদুল মান্নানকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি নেতা শাহাবউদ্দিন ফরাজী বলছেন , শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণ নয়, চরাঞ্চলে মহিষ ও রাখালদের নিরাপত্তায় কেল্লা নির্মাণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের জন্য ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন এবং মহিষ মালিকদের বীমাব্যবস্থা চালু করা দরকার৷ তার মতে পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে মহিষ পালনকে সুরক্ষিত করা গেলে খামারিদের জীবিকা রক্ষার পাশাপাশি ভোলার ঐতিহ্যবাহী দই উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। এ জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তার৷

এবিষয়ে জেলা প্রাণী সম্পদ দপ্তরের জেলা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, মদনপুর চরে বজ্রপাতে দুটি মহিষ মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বেসকিছু চরে আধুনিক কেল্লা নির্মাণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ চরগুলোতেও কেল্লা নির্মাণ সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া খামারিদের অন্যান্য দাবিগুলো ইতোমধ্যে দপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : পাংশায় আমবাগান থেকে অবিস্ফোরিত ৪২টি ককটেল উদ্ধার

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন