মায়ের শখ পূরণ: হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়ি গেলেন বর, দেখতে জনতার ঢল

বিয়ে জীবনের একটি বিশেষ অধ্যায়। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে নানা আয়োজন করেন অনেকে। তবে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে মায়ের দীর্ঘদিনের শখ পূরণ করতে প্রচলিত সব প্রথা ভেঙে হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়িতে গেছেন এক বর। ব্যতিক্রমী এই বরযাত্রা দেখতে সড়কের দুই পাশে নামে উৎসুক জনতার ঢল।
​শুক্রবার (৯ অক্টোবর) উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রাম থেকে একই ইউনিয়নের হিংগারপাড়া গ্রামে কনের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বর সাকিব মিয়া (২৫)। তিনি তিলকপাড়া গ্রামের ছায়েদ আলীর ছেলে। আর কনে সুরাইয়া আক্তার হিংগারপাড়া গ্রামের খোকন মিয়ার মেয়ে।

বিজ্ঞাপন

​সাধারণত বর্তমান সময়ে বিয়ের বরযাত্রায় মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল কিংবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘোড়ার গাড়ি দেখতে পাওয়া যায়। তবে সাকিবের বিয়েতে প্রধান বাহন হিসেবে হাতি ব্যবহারের এই ভিন্নধর্মী আয়োজন স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।
​শুক্রবার বরযাত্রার বহর তিলকপাড়া থেকে হিংগারপাড়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তার দুপাশে ভিড় জমায় হাজারো মানুষ। হাতির পিঠে চড়ে বরের এমন রাজকীয় যাত্রা দেখতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধরাও ভিড় করেন। অনেকেই এই বিরল দৃশ্য নিজেদের মুঠোফোনে বন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন, যা মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

​মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার এক দারুণ নজির স্থাপন করা এই বরযাত্রার পেছনের গল্পটি বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছেলের বিয়েতে হাতির পিঠে চড়ার কৌতূহলী ও শখের বিষয়টি মায়ের মনে আগে থেকেই ছিল। মায়ের সেই সুপ্ত ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়েই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিনটিতে এই ব্যতিক্রমী পথ বেছে নেন সাকিব।

​বর সাকিব মিয়া তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “বিয়ে প্রতিটি মানুষের জীবনেই বিশেষ একটি দিন। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার পাশাপাশি আমার মায়ের দীর্ঘদিনের একটি ছোট্ট শখ ছিল, ছেলে যেন হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে যায়। মা আমার জন্য জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন। তার সেই ইচ্ছাটি পূরণ করতে পেরে আজ আমার হৃদয়ে এক অন্যরকম শান্তি কাজ করছে। সবাই আমাদের নতুন জীবনের জন্য দোয়া করবেন।”

​অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বরজযাত্রার পেছনের মূল প্রেরণা মা বলেন, “ছেলের বিয়েতে আমার বহুদিনের একটি সুপ্ত শখ ছিল, সে যেন হাতির পিঠে চড়ে কনের বাড়ি যায়। আমার সেই ইচ্ছা আজ পূরণ হলো— এটা ভেবেই বুকটা ভরে গেছে। মা হিসেবে সন্তানের আনন্দ দেখলে সব কষ্ট দূর হয়ে যায়। সবাই আমার ছেলের নবদম্পতির জন্য দোয়া করবেন।”

​ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সিপন বলেন, “মায়ের শখ পূরণ করতে হাতির পিঠে চড়ে সাকিবের বিয়ে করতে যাওয়ার বিষয়টি সত্যিই দারুণ ও ব্যতিক্রমী। এই যুগে এমন পারিবারিক বন্ধন ও মায়ের প্রতি ভালোবাসা সত্যিই বিরল। আমি নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর দাম্পত্যজীবন কামনা করি।”

​মায়ের শখ পূরণে হাতির পিঠে চড়ে সাকিবের এই বরযাত্রা কেবল একটি বিয়ে নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে পারস্পরিক ভালোবাসা, আবেগ ও শ্রদ্ধার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

পড়ুন : ২৫ লাখ বছরের গোপন গল্প বলেই যাচ্ছে রক্তের ঝরনা!

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন