ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মাঝে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) লোধি এস্টেটে নিজ বাড়ির সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটক হওয়ার আগে একটি বাস থেকে ভিডিও প্রকাশ করেন কেজরিওয়াল। সেখানে তিনি দাবি করেন, দিল্লি পুলিশ তাকে, এএপি নেতা সঞ্জয় সিং এবং দলের আরও কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে। এ সময় বাসে থাকা বিক্ষোভকারীদের সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দিতে শোনা যায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুযায়ী, যন্তর মন্তরে সিইসির বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিতে ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচির ডাক দেয়ার কিছুক্ষণ পরই কেজরিওয়ালকে আটক করা হয়। এ নিয়ে সাবেক ৪ মুখ্যমন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। এর আগে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ত্রিপুরা রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ও কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।
দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আসছেন বিক্ষোভকারীরা।
কে এই কেজরিওয়াল?
আম আদমি পার্টি (আপ): ২০১২ সালে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ‘আম আদমি পার্টি’ প্রতিষ্ঠা করেন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী: ২০১৩ সালে তিনি প্রথমবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হন, তবে এক লোকপাল বিল পাসের জটিলতায় মাত্র ৪৯ দিন পর পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২০১৫ এবং ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তার দল রেকর্ডসংখ্যক আসনে জয়ী হলে তিনি পুনরায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পদত্যাগ: ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং তার জায়গায় দলের জ্যেষ্ঠ নেত্রী আতিশি দিল্লির নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জন্ম: ১৬ আগস্ট ১৯৬৮ সালে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন।
শিক্ষা: তিনি ভারতের বিখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়গপুর থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক ডিগ্রি অর্জন করেন।
পেশা: প্রথমে টাটা স্টিলে চাকরি করলেও পরবর্তীতে তিনি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিসে (IRS) যোগ দেন। ২০০৬ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন।
তথ্য জানার অধিকার (RTI): ভারতে তথ্য জানার অধিকার আইন (RTI) প্রণয়নের পেছনে তার তৃণমূল আন্দোলনের বিশাল ভূমিকা ছিল।
র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার: উদীয়মান নেতৃত্ব ও দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে তাকে এশিয়ার মর্যাদাপূর্ণ র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
আন্না হাজারের আন্দোলন: ২০১১ সালে প্রখ্যাত সমাজকর্মী আন্না হাজারের সঙ্গে মিলে ভারতজুড়ে ‘ইন্ডিয়া অ্যাগেইন্সট করাপশন’ বা দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন।
২০২৪ সালে আবগারি নীতি সংক্রান্ত মামলায় তাকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে তিনি জামিন পান।
সম্প্রতি (১০ অক্টোবর ২০২৬), ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত একটি বড় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়ার সময় তাকে লোধি এস্টেটের নিজ বাসভবনের সামনে থেকে দিল্লি পুলিশ আটক করেছে।
পড়ুন : ভারতে ভোটার তালিকা নিয়ে কী ঘটেছিল, আন্দোলনকারীরা কেন সিইসির পদত্যাগ চান?


