গুরুগ্রাম থেকে মুক্তি পেলেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা একটি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নির্ধারিত এই বিক্ষোভের আগে নিজ বাসভবন থেকে আটক জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোররাতে মুক্তি দিয়েছে গুরুগ্রাম পুলিশ। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, জার্মানি থেকে নিজ দেশে ফেরার মাত্র দুদিন পরই ক্রাইম ব্রাঞ্চের তিনটি দল সকাল ৬টার দিকে রাঠিকে আটক করে কার্যালয়ে নিয়ে যায় এবং প্রায় এক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেন্ট্রাল দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষ অভিযান চালালে বিরোধী দলের নেতা, অধিকারকর্মী ও কনটেন্ট নির্মাতা সহ আটক হওয়া ৬ হাজারের বেশি মানুষের মধ্যে তিনিও ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, গত দুই দিনে সবমিলিয়ে সাত হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান অভিজিৎ দ্বীপ সহ দলটির শীর্ষ নেতাদের ১০ ঘণ্টা ধরে কোনো খোঁজ না পাওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দলটি লিখেছে, “বিষয়টি অতীব জরুরি, ১০ ঘণ্টা হয়েছে দিল্লি পুলিশ অভিজিৎ দ্বীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে অপহরণ করেছে। আমরা এখনো জানি না তারা কোথায়। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। দিল্লি পুলিশ তাদের কোথায় রেখেছে? এভাবে কাউকে অপহরণ করা কীভাবে মেনে নেওয়া যায়?”

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তরমন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় মুম্বাই থেকে বিমানে দিল্লি পৌঁছানোর পর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই অভিজিৎসহ শীর্ষ তিন নেতাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। এর মধ্যেই অভিজিতের দাদি মারা যাওয়ার সংবাদ আসে। বিভিন্ন মহলে দাবি করা হয় যে তাকে এই খবর জানানো হয়নি। তবে দিল্লি পুলিশ এক্সে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ককরোচ পার্টির প্রধানকে তার দাদি মারা যাওয়ার খবর তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে এবং তাকে বলা হয়েছে, “যদি তিনি চান, মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে দাদির শেষ বিদায়ে থাকার জন্য। তবে আগে তাকে আন্দোলন বন্ধ করতে হবে।” এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত অভিজিতের নিজস্ব কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পুলিশি বাধার কারণে ককরোচ পার্টির তরুণ কর্মীরা যন্তরমন্তরের দিকে যেতে ব্যর্থ হন এবং আন্দোলনকারীদের প্রায় সবাইকে আটক করা হয়। আটক হয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালও। বিক্ষোভের ডাক দেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে দিল্লি সফররত তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে শনিবার আটক করা হয় এবং তিনি এখনো দিল্লি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তার সঙ্গে এই বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তার ভাইপো ও সংসদ সদস্য অভিষেক ব্যানার্জির।

তরুণ বিক্ষোভকারীদের ওপর এই দমনপীড়নের প্রতিবাদে আগামী সোমবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিশাল এক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোট ‘ইন্ডিয়া’। জোটের একটি সূত্র শনিবার সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জিও এই ঘটনার জেরে তার দিল্লি সফর দীর্ঘায়িত করছেন।

অন্যদিকে, ককরোচ পার্টির পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—যতদিন পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করবেন, ততদিন তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

পড়ুন : বিক্ষোভে আটক ইমরান খান, মুক্তির পরও ভোগান্তিতে অভিনেতা

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন