ভুয়া বিল-ভাউচারে ২৪ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, সহকারী মেকানিক সাময়িক বরখাস্ত

রাজশাহীর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) পবা জোনের সেচযন্ত্রের বিদ্যুৎ মিটার রির্চাজের নামে ২৪ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সহকারী মেকানিক মোতাহার হোসেন।

বিজ্ঞাপন

অভিযুক্ত মোতাহার হোসেনকে পঞ্চগড় জোনে সংযুক্ত করে বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খানের স্বাক্ষর করা অফিস আদেশে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বিএমডিএ সূত্রে জানা যায়, পবা জোনের আওতাধীন নওহাটা পৌরসভার সিন্দুরঝুসুম্বী মৌজার একটি গভীর নলকূপের প্রিপেইড মিটার নষ্ট হওয়ার পর আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করা হয়। গত ১২ নভেম্বর ২০২৫ সাল থেকে ৪ এপ্রিল ২০২৬ সালের পর্যন্ত চার মাসের বেশি সময় মিটারটির তথ্য সংগ্রহে কোনো চেকিং কার্ড ব্যবহার করা হয়নি।

এবিষয়ে গত ২০ জুলাই অভিযুক্তকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সে ২৬ জুলাই তিনি লিখিত জবাব দেয়। কিন্ত কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক মনে করেনি। পরে তাঁর অনুকূলে বরাদ্দ করা সেচযন্ত্রের বরাদ্দ আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। তাঁর দায়িত্বে থাকা গভীর নলকূপগুলোর প্রিপেইড মিটার রিচার্জের তথ্য যাচাই করতে গিয়ে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সামনে আসে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বিকাশ, রকেট ও জনতা ব্যাংকের ডিলার পয়েন্টের পেমেন্ট স্লিপ ও ভাউচার জমা দিয়ে ২০১৪-১৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ২৩ লাখ ৯২ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৮ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন মোতাহার হোসেন। এই বিষয়ে ২১ ও ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে কৈফিয়ত তলব করা হলেও তিনি জবাব দেননি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করে। অফিস আদেশ অনুযায়ী, এসকল কর্মকান্ড ও অসদাচরণ, পলায়ন, অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট চাকরিবিধি অনুযায়ী তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

সহকারী মেকানিক সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালেও সে নিয়মিত পঞ্চগড় জোন অফিসে উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবস্থান করতে হবে। এই জন্য পৃথক হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে হবে। কর্মস্থল ত্যাগের আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতিও নিতে হবে। সার্বিক বিষয়ে মোতাহার হোসেনকে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

পবা জোনের সহকারী প্রকৌশলী (বিএমডি) জামিনুর রহমান বলেন, মোতাহার হোসেন অফিস থেকে অর্থ নিয়ে সেচযন্ত্রের বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করতেন। কিন্তু দুই অর্থবছরে প্রায় ২৪ লাখ টাকার মিটার রিচার্জ না করেই ভুয়া ভাউচার ও পেমেন্ট স্লিপ জমা দিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নির্বাহী পরিচালক (বিএমডি) জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, এ ঘটনায় প্রধান কার্যালয় থেকে অধিকতর উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা হবে। তদন্তে জালিয়াতির সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পড়ুন : বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা পর্যন্ত রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন