ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্সের চমক

টানা তিন ম্যাচে হারের পর অনেকটাই চাপে থাকা লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসের (ডব্লিউসিএল) মঞ্চে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের নজির গড়েছে। রবিবার রাতে শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারত চ্যাম্পিয়নসকে ৩ রানে হারিয়ে স্বস্তির জয় তুলে নিয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। ব্যাট হাতে লড়াকু সংগ্রহ গড়ার পর বল হাতে শেষ পর্যন্ত স্নায়ুর লড়াইয়ে জয়ী হয়েছে বাংলাদেশ।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। জবাবে জয়ের জন্য ১৪২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৩৮ রানে থেমে যায় ভারত চ্যাম্পিয়নসের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ৩ রানের ব্যবধানে পাওয়া এই জয় বাংলাদেশের জন্য ছিল দারুণ স্বস্তির। একই সঙ্গে টানা তিন ম্যাচে হারের পর ঘুরে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাসও ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো দলটির সামনে।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ১০ রানের মাথায় ইমরুল কায়েস ফিরে গেলে প্রাথমিক ধাক্কা সামলানোর দায়িত্ব পড়ে অন্য ব্যাটারদের ওপর। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান রনি তালুকদার। তাঁর ব্যাটে ভর করেই দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করে বাংলাদেশ।

মাত্র ২৫ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৪০ রান করেন রনি। তাঁর এই ইনিংস বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তবে রনি আউট হওয়ার পর আবারও চাপে পড়ে দল। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা কিছুটা কমে যায়।

ফজলে মাহমুদ ৩, জহুরুল ইসলাম ৬ এবং অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অভিজ্ঞ ব্যাটারদের ব্যর্থতা বাংলাদেশের ইনিংসে বাড়তি চাপ তৈরি করে। দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে দল যখন বিপাকে, তখন হাল ধরেন নাসির হোসেন ও আরাফাত সানি।

নাসির ২১ বলে ২৪ রান করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে আরাফাত সানি খেলেন দায়িত্বশীল ইনিংস। ৩৮ বলে ৩৭ রান করে তিনি ইনিংসের ভিত শক্ত করেন। শেষ দিকে আবু জায়েদের ১০ রান বাংলাদেশের সংগ্রহকে ১৪১-এ নিয়ে যেতে সহায়তা করে। বড় সংগ্রহ না হলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ার মতো রান পায় বাংলাদেশ।

১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ভারত চ্যাম্পিয়নস। বাংলাদেশের বোলাররা শুরুতে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ভারতীয় ব্যাটারদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে দেননি। আম্বাতি রায়ডু মাত্র ৩ রান করে ফিরে যান। অধিনায়ক যুবরাজ সিং কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। রবিন উথাপ্পাও ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি।

একপর্যায়ে মাত্র ৫৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে ভারত। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে চলে আসে। তবে অভিজ্ঞ ও আক্রমণাত্মক ব্যাটারদের নিয়ে গড়া ভারতীয় দল সহজে হাল ছাড়েনি।

ইরফান পাঠান ৪১ বলে ২৪ রান করে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। তাঁর ধীরস্থির ব্যাটিং ভারতকে কিছুটা স্থিতিশীলতা এনে দেয়। এরপর ঋষি ধাওয়ান ১৮ বলে ২৪ রান করে পাল্টা আক্রমণ চালান। তাঁদের প্রচেষ্টায় ম্যাচে টিকে থাকার সুযোগ পায় ভারত।

ইনিংসের শেষ দিকে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেন পবন নেগি ও পীযূষ চাওলা। পবন নেগি মাত্র ১৪ বলে ২৬ রান করে ভারতকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে পীযূষ চাওলা ১৮ বলে ২৪ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তাঁদের দ্রুত রান তোলার ফলে ম্যাচের সমীকরণ বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে।

শেষ মুহূর্তে ভারতীয় ব্যাটারদের আক্রমণের মুখেও নিজেদের পরিকল্পনায় অটল থাকে বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট। চাপের মধ্যে লাইন ও লেংথ ধরে রেখে রান আটকে দেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বোলাররা। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৩৮ রানে থেমে যায় ভারতের ইনিংস। ফলে ৩ রানের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে এনামুল হক জুনিয়র ছিলেন সবচেয়ে সফল। তিনি শিকার করেন ৪ উইকেট। আবু জায়েদ ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। তাঁদের কার্যকর বোলিং ভারতের রান তাড়ায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

টানা তিন ম্যাচে হারের পর এমন একটি জয় বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাটিংয়ে ওঠানামা থাকলেও দলীয় প্রচেষ্টা এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের সুবাদে জয় পেয়েছে মাহমুদউল্লাহর দল। বিশেষ করে শেষ দিকে ভারতের পাল্টা আক্রমণ সামলে নেওয়া ছিল ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

এই জয় শুধু ব্যবধানের দিক থেকেই রোমাঞ্চকর নয়, বরং চাপের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতারও পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ। ডব্লিউসিএলের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই আত্মবিশ্বাস কাজে লাগাতে পারলে আরও ভালো করার সুযোগ থাকবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের সামনে।

পড়ুন: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি জানা যাবে আজ

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন