লোডশেডিংয়ে নাকাল মানুষ, পটিয়ায় মেলার দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় ব্যবসায়ীরা

দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন চট্টগ্রামের পটিয়ায় একের পর এক ভ্রাম্যমাণ মেলার আয়োজনে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে।
‎
‎এবার উপজেলার বাদামতল এলাকায় মাসব্যাপী আনন্দমেলার প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) মেলাটির উদ্বোধনের কথা রয়েছে। রাতব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে বাড়তি বিদ্যুৎ ব্যবহার, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি এবং মেলার অনুমতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
‎
‎স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তাঁতবস্ত্র, কুটিরশিল্প ও আনন্দমেলার নামে ঘনঘন এমন আয়োজনের ফলে স্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বেচাকেনা কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে মেলায় অতিরিক্ত বিদ্যুতের ব্যবহার তাঁদের ভোগান্তি আরও বাড়াতে পারে।
‎
‎স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাদামতল এলাকায় মেলার জন্য নির্ধারিত মাঠটির মালিক জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অসিত বড়ুয়া। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তাঁর অনুপস্থিতিতে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার মধ্যস্থতায় মাঠটি ভাড়া নিয়ে মেলার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে অসিত বড়ুয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‎
‎গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পটিয়ার নাহার পার্কে ১২ দিনব্যাপী একটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৩ অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত মোজাফফরাবাদ স্কুলের সামনে কালাম কনভেনশন হলে আরেকটি মেলার আয়োজন করা হয়। এর মধ্যেই বাদামতল এলাকায় মাসব্যাপী মেলার প্রস্তুতি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
‎
‎পটিয়া সদর বণিক সমিতির সভাপতি গাজী আমির হোসেন বলেন, “ঘনঘন এসব মেলার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
‎
‎স্থানীয় ব্যবসায়ী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “একের পর এক লাগামহীন মেলায় আমরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। মেলার নামে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ব্যবসা করছেন। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
‎
‎স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব মেলায় নিম্নমানের পণ্য বিক্রি, অশালীন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং জুয়ার আসর বসার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বাদামতলের প্রস্তাবিত মেলায় কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
‎
‎বর্তমানে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তিতে থাকা গ্রাহকদের আশঙ্কা, রাতব্যাপী মেলার আলোকসজ্জা ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারে স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।
‎
‎পল্লী বিদ্যুতের স্থানীয় গ্রাহক আবিদুল ইসলাম বলেন, “এমনিতেই প্রচণ্ড লোডশেডিংয়ের মধ্যে আছি। মেলার নামে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলে তার প্রভাব আমাদের জনজীবনে পড়বে। সংকটের মুহূর্তে এ ধরনের আয়োজন অযৌক্তিক।”
‎
‎মেলায় বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে পটিয়া পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মুমিনুল ইসলাম বলেন, “মেলার অনুমতি থাকলে সংযোগের জন্য আবেদন করলে দিতে বাধ্য আমরা।” তবে ওই এলাকা থেকে অস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
‎
‎মেলার উদ্যোক্তা নুরুল ইসলাম বলেন, “অশালীনতা ও জুয়ার সঙ্গে আমরা নেই। সুন্দরভাবে মেলা পরিচালনার জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে।”
‎
‎বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মিটারের আবেদন করেছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আবেদন করেছেন, তবে এখনো মিটার পাননি। রোববার পর্যন্ত মেলা আয়োজনের অনুমতিও পাননি বলে জানান তিনি।
‎
‎মেলার অনুমতি ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, মেলার অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে।
‎
‎এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, বাদামতল এলাকাটি অপরাধপ্রবণ হওয়ায় সেখানে রাতব্যাপী মেলার আয়োজন নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন মাঠে মেলা আয়োজনের সুযোগ দেওয়ার পেছনে কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা।
‎
‎মেলার মাঠ ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানতে জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অসিত বড়ুয়ার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
‎
‎সব মিলিয়ে, বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে বাদামতলে মাসব্যাপী মেলার আয়োজন, অনুমোদন ও বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়টি এখন আলোচনায়। একই সঙ্গে ঘনঘন মেলার কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতির অভিযোগও সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে মেলার অনুমতি, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর ঘিরে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন