প্রাক্তন স্ত্রীর বিয়ে দিলেন ‘স্পাইডার-ম্যান’ তারকা টোবি ম্যাগুয়ার

হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা টোবি ম্যাগুয়ারের প্রাক্তন স্ত্রী জেনিফার মেয়ারের বিয়েতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি নিজেই। ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই অভিনেতা প্রাক্তন স্ত্রীর নতুন জীবনের বিশেষ মুহূর্তে উপস্থিত থেকে আলোচনায় এসেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবি ঘিরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। নবদম্পতির প্রথম চুম্বনের মুহূর্তেও টোবির উপস্থিতি নজর কেড়েছে ভক্তদের।

বিজ্ঞাপন

গত ১০ অক্টোবর, শনিবার, হাওয়াইয়ের ‘ফোর সিজনস রিসর্ট লানাই’তে বসেছিল জেনিফার মেয়ার ও ব্যবসায়ী জিয়োফ্রি ওগুনলেসির বিয়ের আসর। সেখানে প্রাক্তন স্ত্রীকে নতুন জীবনে পা রাখতে দেখেছেন টোবি ম্যাগুয়ার। শুধু অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকাই নয়, বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনার বিশেষ দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। প্রাক্তন স্ত্রীর বিয়েতে তার এমন উপস্থিতি অনেকের কাছেই ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, টোবি ও জেনিফারের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। গত সেপ্টেম্বরে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়।

এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে জেনিফারের নতুন জীবনের অনুষ্ঠানে টোবির উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতূহল তৈরি করেছে।জেনিফারের বর্তমান স্বামী জিয়োফ্রি ওগুনলেসি নাইজেরিয়ার ধনকুবের আইনজীবী ও বিনিয়োগকারী আদেবায়ো ওগুনলেসির ছেলে। ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান জিয়োফ্রির সঙ্গে জেনিফারের সম্পর্কের কথা প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২৩ সালে। ওই বছরের নভেম্বর মাসে একটি অনুষ্ঠানে দুজনকে একসঙ্গে লাল গালিচায় দেখা যায়। এরপর থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।২০২৪ সালের আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বাগ্‌দানের খবর জানান জেনিফার। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর অবশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন তারা। এর আগে জেনিফার ও জিয়োফ্রির পরিবারে নতুন অতিথির আগমনের খবরও প্রকাশ্যে এসেছিল।

গত ২১ জুন, পিতৃদিবসে ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টের মাধ্যমে সন্তান জন্মের খবর জানিয়েছিলেন জেনিফার। সেই ঘটনার কয়েক মাস পর তাদের বিয়ের আয়োজন হলো।জেনিফার ও টোবি ম্যাগুয়ারের সম্পর্কের ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ। ২০০৭ সালে বিয়ে করেছিলেন তারা। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। তবে ২০১৬ সালের অক্টোবরে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন এই দম্পতি। এরপর ২০২০ সালে জেনিফার বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। বিচ্ছেদের পর দুজনের ব্যক্তিগত জীবন আলাদা পথে এগোলেও সন্তানদের কারণে তাদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রয়েছে বলে জানা যায়।

প্রাক্তন স্ত্রীর বিয়েতে টোবির উপস্থিতি তাই অনেকের কাছে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠান পরিচালনায় তার ভূমিকা এবং নবদম্পতির প্রথম চুম্বনের মুহূর্তে উপস্থিত থাকার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। অনেকেই বিষয়টিকে প্রাক্তন সম্পর্কের পরও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

তবে এ বিষয়ে টোবি বা জেনিফারের ব্যক্তিগত অনুভূতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।জেনিফার ও টোবির বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হলিউডের একাধিক পরিচিত তারকা। অতিথিদের তালিকায় ছিলেন অভিনেত্রী র‍্যাচেল জো, ফ্রেন্ডসখ্যাত অভিনেত্রী কোর্টনি কক্স এবং অভিনেতা লিয়োনার্দো ডিক্যাপ্রিও। ডিক্যাপ্রিওর প্রেমিকা ভিত্তোরিয়া চেরেত্তিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ও তার স্ত্রী লরেন সানচেজ বেজোসের উপস্থিতিও অনুষ্ঠানটিকে তারকাবহুল করে তোলে।হলিউডে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ নতুন নয়। তবে প্রাক্তন স্ত্রীর বিয়েতে টোবি ম্যাগুয়ারের এমন ভূমিকা আলোচনায় আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

সাধারণত বিচ্ছেদের পর সাবেক দম্পতিদের একে অপরের ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। সেই জায়গা থেকে টোবির উপস্থিতি ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল বাড়িয়েছে।সব মিলিয়ে, জেনিফার মেয়ার ও জিয়োফ্রি ওগুনলেসির বিয়ের আয়োজন যেমন তারকাদের উপস্থিতির কারণে আলোচনায় এসেছে, তেমনি টোবি ম্যাগুয়ারের ভূমিকা অনুষ্ঠানটিকে আরও বেশি আলোচিত করেছে। প্রাক্তন স্ত্রীর নতুন জীবনের বিশেষ দিনে তার উপস্থিতি এবং নবদম্পতির প্রথম চুম্বনের মুহূর্তের ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তবে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা হলেও তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বর্তমান সমীকরণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পড়ুন:২০২৭ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.২ শতাংশে নামার আশঙ্কা: আইএমএফ

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন