এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সৌদি যুবরাজ, কিন্তু কেন?

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার মধ্যে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ৪১ বছর বয়সী এই যুবরাজকে এক সুরক্ষিত প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এসব প্রাসাদে বাংকারও তৈরি করা হয়েছে। হামলার তীব্রতা বাড়ার পর থেকে যুবরাজকে জনসমক্ষেও দেখা যাচ্ছে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যুবরাজের চলাফেরা সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হুতিদের জোরালো হামলার মধ্যে তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থান পরিবর্তন করা হচ্ছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে রক্ত দেওয়ার সময় তাঁকে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকে তিনি আর প্রকাশ্যে আসেননি বলে দাবি করা হয়েছে।

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকিও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুবরাজের সুরক্ষায় বিশেষভাবে বাছাই করা একটি নিরাপত্তা দল নিয়োজিত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

এর মধ্যে গত শনিবার গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়েছে সৌদি আরব—এমন দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলার বিষয়ে অবগত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংঘাতগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলে দেশটির মিত্রদের ওপর চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটি ছিল এককভাবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলায় ২৮ বছর বয়সী এক মিসরীয় নারী উড়োজাহাজসেবিকার একটি হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পরে তাঁর মৃত্যু হয়। হামলায় অঙ্গহানির শিকার কয়েকজনের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন।

ভয়াবহ ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত পাঁচ দিনে বিমানবন্দরটিতে চারবার হামলা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান সতর্ক করে বলেছেন, এর জবাবও ‘সমানভাবে কঠোর’ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের হামলায় যুক্ত হওয়ার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। অন্যদিকে, মক্কা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের মিত্ররাও রিয়াদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাত চলছে। ২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে সেই চুক্তি ভেঙে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান থেকে আসা একটি বিমান সানার বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করার সময় সৌদি বাহিনী সেখানে হামলা চালিয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে হুতিরা আবার হামলা শুরু করে।

ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা মধ্যপ্রাচ্যে তেহরানের সবচেয়ে ভারী অস্ত্রসজ্জিত সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ‘আরব উপদ্বীপের পরিস্থিতির সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে তেহরান গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। তিনি আরও বলেন, এই সংঘাত ‘শুধু ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীকেই লাভবান করবে’।

এর আগে গত রোববার গভীর রাতে সৌদি আরব ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সংঘাতের বিস্তার নিয়ে কথা বলেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, তিনি সামরিক পন্থার ওপর জোর দেওয়া এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি উপেক্ষা করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে তেহরান সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে দেশটির সরকারকে সমর্থন দিতে যুদ্ধে জড়ায় সৌদি আরব। এরপর থেকেই সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয়।

পড়ুন: যন্তর মন্তরে বাধা, নতুন মাঠে প্রতিবাদ কতটা সহজ?

আর/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন