নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত এ্যাম্পায়ার কটন নামের একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের ৯৮ লাখ টাকা পাওনা আদায় করতে গিয়ে হুমকি ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাওনা টাকা আদায় এবং হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) রাসেল আহাম্মেদ লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এ্যাম্পায়ার কটনের যৌথ মালিক রাইসান রোমান ও আতিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশসহ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন দেশে গার্মেন্টস ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ২০২০ সালে পরিচয়ের সূত্র ধরে আসাদুজ্জামান হিরু (৪৫) ও সাগর হোসাইন (৩২) প্রতিষ্ঠানটি থেকে নগদ ও বাকিতে গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে হিসাব অনুযায়ী, তাঁদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির ৯৮ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ ঘটনায় ২০২৫ সালে ফতুল্লা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানটি জানতে পারে, নিউ ইনডেক্স এক্সোসরিজ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানেরও সাগর হোসাইন ও সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রায় ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। পাওনা টাকা নিয়ে সমঝোতার জন্য অক্টো অফিস এলাকার নীরজুম হাউজিং সোসাইটিতে সাগর উপস্থিত হলে সেখানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে এ্যাম্পায়ার কটনের মালিক রাইসান রোমান ও আতিকুল ইসলামসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সেখানে যান। এ সময় পাওনা টাকা চাইলে সাগর হোসাইন টালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে থাকা প্রথম আলোর চাকরিচ্যুত সংবাদকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া এক ব্যাক্তি টাকা দাবি করেন এবং সংবাদ প্রকাশ ও মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেন বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ সময় অন্য পাওনাদারদের সঙ্গেও তাঁর বাকবিতণ্ডা হয় বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পরে পাওনার হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে সাগর হোসাইন স্বেচ্ছায় তাঁদের গাড়িতে করে এ্যাম্পায়ার কটনের কার্যালয়ে আসেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে সাগরের অভিভাবকেরা বৈঠকে উপস্থিত হয়ে পাওনা টাকা পরিশোধের শর্তে তাঁকে নিয়ে যান। এ ঘটনায় বিকেএমইএ ও বিসিক গার্মেন্টস মালিক সমিতির নেতাদেরও অবহিত করা হয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে, একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হলেন ফতুল্লার উত্তর মাসদাইর এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে আসাদুজ্জামান হিরু (৪৫), একই এলাকার শরীফ উদ্দিন মেম্বারের ছেলে সাগর হোসাইন (৩২) এবং কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার আমলাবাড়ী এলাকার শাহ আলমের ছেলে মো. গোলাম রব্বানী শিমুল (৩২)।
সংবাদ সম্মেলনে রাসেল আহাম্মেদ অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা যাতে এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পড়ুন : রাজবাড়ীতে মব সৃষ্টি করে ইউপি সদস্যকে নির্যাতন, সংবাদ সম্মেলন


