চরফ্যাশনে ৩০ বছর ধরে নিজ অর্থায়নে গাছ লাগানো সেই ইমামের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম দিয়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়ে চরফ্যাশনের এক ব্যতিক্রমী ইমামের গল্প এখন দেশজুড়ে আলোচিত।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের কাছে বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে পরিচিত এই ইমামের নাম মো. রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। তিনি চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের কালাপানিয়া বাজার বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম। ১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভূঁইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন বাবুল মিয়া। সেখান থেকে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ শুরু করেন। তাঁর লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়ে পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।

এ সংক্রান্ত সংবাদ দেশের স্হানীয় ও জাতীয় দৈনিককে প্রচার হলে বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হলে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আফরোজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আমন্ত্রণপত্র পান বাবুল মিয়া।

গতকাল ১৪ অক্টোবর (বুধবার) তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁকে নিজ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।

বাবুল মিয়ার লাগানো গাছের মধ্যে রয়েছে তাল, ফলজ ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ। ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে প্রায় দুই দশক আগে লাগানো শত শত তালগাছ এখন সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। দূর থেকে দেখলে পুরো সড়কটি যেন সবুজে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক পথ।

রেজাউল কিবরিয়া বাবুল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার এই কর্মের প্রদান করায় আমি মহান আল্লাহর শুকরিয়া ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি যোগ্যতা প্রকাশ করছি।আমি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় প্রায় তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে আসছি।

এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা লাগিয়েছি। এর মধ্যে তালগাছের বীজ ও চারা রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার। আমি গাছ লাগানোকে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে দেখি। যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিনই এই কাজ চালিয়ে যেতে চাই।’

এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, ‘গাছ লাগানো অবশ্যই একটি ভালো উদ্যোগ। রেজাউল কিবরিয়া সাহেবের দীর্ঘদিনের এ কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার পাশে দাঁড়ানোর আশা দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পড়ুন:দুর্গোৎসবে বিএনপির নেতা কর্মীরা প্রহরীর দায়িত্ব পালন করবেন

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন