বাইশ বছর- জীবনের সোনালি সময়। এই বয়সে একজন তরুণের চোখে থাকার কথা সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন, হাতে থাকার কথা কলম কিংবা নতুন কোনো উদ্যোগের রূপরেখা। সেই তরুণের পকেট থেকে যখন মরণনেশা ইয়াবা উদ্ধার হয়, তখন তা কেবল পরিবারের জন্যই নয়, বরং পুরো সমাজের জন্যই গভীর অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়ায়। এমনই এক হতাশাজনক বাস্তবতার চিত্র ধরা পড়েছে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভরদুপুরে উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের ঝানজাইল ব্রিজ এলাকায় পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্টে দুইশো পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ধরা পড়েন মো. নিতুল ইসলাম নামের এক তরুণ।
নিতুলের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলা থানাধীন জারিয়া এলাকায়। বাবা মো. সুমন মিয়ার তরুণ সন্তানটি হয়তো পরিবারের অনেক বড় আশার জায়গা ছিলেন। মাদকের ভয়াল থাবা কতটা নীরবে আমাদের যুবসমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে, নিতুলের এ ঘটনাই তার বড় প্রমাণ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে ঝানজাইল ব্রিজ চেকপোস্ট এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি ও অভিযান পরিচালনা করছিল পুলিশ। এ সময় ওই এলাকা পার হওয়ার সময় নিতুল ইসলামের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের। পরবর্তীতে তাকে থামিয়ে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে মাদকের চালান। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দুইশো পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। সমাজ ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার ভয়ংকর উপকরণগুলো আলামত হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আইনের চোখে নিতুল এখন একজন অপরাধী। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রাথমিক উদ্যোগ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। আটক তরুণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় পুলিশও জানে, কেবল গ্রেফতার বা আইনি ব্যবস্থাই সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান নয়। প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা। ওসি খন্দকার শাকের আহমেদও সেই বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তবে এমন অভিযান পুরোপুরি সফল করতে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের সার্বিক সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।”
পড়ুন:দুর্গোৎসবে বিএনপির নেতা কর্মীরা প্রহরীর দায়িত্ব পালন করবেন
ইমি/


