বরগুনায় জামায়াত নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

বরগুনার পাথরঘাটায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহসানের ওপর হামলা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বরগুনা জেলা শাখা।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জামায়াত নেতার ওপর হামলার বর্ণনা দিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে পাথরঘাটা উপজেলার সাবেক আমির ও কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামীম আহসান বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন। কেরামতপুর বাজার থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে কিরণপুর সড়কে বিএনপি নেতা সোলাইমান সাদিকের কয়েকজন সহযোগী তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়।

বক্তব্যে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা তাঁকে লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। এতে তাঁর দুই হাত ও ডান পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখেও একই ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। ওই ঘটনায়ও তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, বৃহস্পতিবার সকালে নাচনাপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পাথরঘাটা উপজেলা সভাপতি নাসির উদ্দিন মুন্সির দোকান ভাঙচুর করে মালামাল ফেলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া উপজেলার চরদুয়ানী এলাকার একটি স্থানে চিংড়ি ঘেরের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এসব ঘটনা এবং কথিত হামলার বিষয়ে এর আগেও সাংবাদিকদের অবহিত করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে স্মারকলিপি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, বারবার প্রতিকার চেয়েও তাঁরা প্রত্যাশিত সুরক্ষা পাননি।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে বলে দলটির দাবি।

বক্তারা প্রশাসনের প্রতি হামলার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পাথরঘাটা উপজেলা ও বরগুনা-২ আসনের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরগুনা জেলা শাখার আমির মাওলানা মুহিবুল্লাহ হারুন।

পড়ুন : ৫ বছর পর টাঙ্গাইলে প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ শুরু

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন